বরগুনায় স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ আরও ১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত দুইজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে একজন চিকিৎসক এবং অপরজন বরগুনা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনেশিয়ান পদে কর্মরত আছেন। আক্রান্ত সাংবাদিক যমুনা টেলিভিশনের বরগুনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া, বাকি সাতজনের মধ্যে পুলিশসহ তিনজন বরগুনা সদর উপজেলার, দুইজন বামনা উপজেলার, একজন পাথরঘাটা উপজেলার ও একজন তালতলী উপজেলার বাসিন্দা।
এদিকে, শনিবার সকালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হলো ১৭৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার ৮৪ জন, আমতলী উপজেলার ২৭ জন, বামনা উপজেলার ২৪ জন, বেতাগী উপজেলার ২১ জন, পাথরঘাটা উপজেলার ১৬ জন এবং তালতলী উপজেলার নয়জন রোগী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ১০৯ জন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন এবং দুইজন মৃত্যুবরণ করেছেন।
সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন শাহিন খান জানিয়েছেন, বরগুনায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন নারী ও আটজন পুরুষ। আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন স্বাস্থ্যকর্মী, একজন পুলিশ ও একজন সাংবাদিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে এবং আটজন হোম আইসোলেশনে আছেন। এ নিয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হলো ১৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৬৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন প্রায় সবাই শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত জেলায় মোট দুই হাজার ৩৬৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই হাজার ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে।
অপরদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় বরগুনায় পাঁচজন রোগী করোনামুক্ত হয়েছেন। তারা হলেন, জেলা মাদক নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা এ এন এম হাসান (৩৭), বরগুনা সদর উপজেলার মো. আল-আমিন (৩৮), বেতাগী উপজেলার জাহিদুল ইসলাম (৩৩), তালতলী উপজেলার সুলতান খন্দকার (৫২) ও মাসুদ খন্তকার (৪৭)। বুধবার সকালে তাদের করোনামুক্তির ছাড়পত্র দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এনিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত বরগুনায় মোট ১০৯ জন রোগী চিকিৎসা শেষে সম্পুর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার ৫৬ জন, বামনা উপজেলার ১৫ জন, আমতলী উপজেলার ১৮ জন, পাথরঘাটা উপজেলার নয়জন, বেতাগী উপজেলার সাতজন এবং তালতলী উপজেলার পাঁচজন রোগী রয়েছেন।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বরগুনায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে একজন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে এসেছেন। এ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে এসেছেন ৫৭৯ জন। তাদের মধ্যে ৫৬২ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। বাকী ১৭ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এছাড়া, বরগুনায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৩ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে এসেছেন। এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন দুই হাজার ৭৮ জন। তাদের মধ্যে এক হাজার ৮৬৮ জন কোয়ারেন্টাইন শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। বাকী ২১০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তাছাড়া, ১৪ জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে এবং ৫৩ জন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বরগুনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত ৯ এপ্রিল। সেদিন জেলার আমতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জি এম দেলোয়ার হোসেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে ১৭ এপ্রিল। সেদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন জেলার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের বৃদ্ধ খলিলুর রহমান।
ইত্তেফাক/আরএ
