রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমার সাড়ে চার সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ০৪:০০

রাজশাহীতে ধীরে ধীরে ফুলে ফেঁপে উঠছে পদ্মা। প্রতিদিনই বাড়ছে পদ্মার পানি। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ডুবে গেছে অধিকাংশ চর। স্রোত ও ঢেউ আছড়ে পড়ছে বাম তীরের রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্টে ‘টি বাঁধে’। শনিবার (২৭জুন) বিকাল ৩টায় বিপদসীমার সাড়ে চার সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল পদ্মা। তবে এ নিয়ে আপাতত শঙ্কার কিছু নেই বলে জানিয়েছে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুখলেসুর রহমান জানান, মূলত বৃষ্টির কারণেই পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। সাধারণত অক্টোবর পর্যন্ত পানি বাড়তে থাকে। গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহী পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ৫১ সেন্টিমিটার। তবে বিপদসীমা ধরা হয় ১৮ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। এখন পানি বাড়াকে স্বাভাবিক প্রবাহ হিসেবেই দেখছেন তিনি।

আরো পড়ুন: উল্লাপাড়ায় করোনা এক ব্যক্তির মৃত্যু

এদিকে, জুন মাসের শুরু থেকেই পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডে গেজ রিডার এনামুল হক। তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় ১৩ দশমিক ৮১ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পদ্মার পানির প্রবাহিত হচ্ছিল। বিকাল ৩টায় পানি বেড়ে ১৩ দশমিক ৮৪ সেন্টিমিটারে ওঠে। প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর পানির উচ্চতা মাপা হয়। প্রতিদিনের পানির প্রবাহ রেকর্ড রাখা হচ্ছে। তবে পদ্মার পানির উচ্চতা নিয়ে এখনো উদ্বেগের কিছু নেই বলেও জানান এনামুলও। কারণ, গত ১৭ বছরে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে মাত্র দু’বার। ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৮ বছর রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। ২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৮৫ মিটার। এরপর ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। ওই বছর পদ্মার উচ্চতা দাঁড়িয়েছিল ১৮ দশমিক ৭০ মিটার। এরপর আর পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। 

এদিকে পদ্মায় পানি বাড়তে থাকায় আশা জেগেছে জেলেদের মাঝেও। এরইমধ্যে তারা মাছ শিকারের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। অনেকেই তৈরি করছেন বাঁশের চাঁই। কেউ বা বুনছেন জাল। ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে জেলে পল্লীতে।

পদ্মাপাড়ের জেলে নওশের আলী অবশ্য বলেন, পদ্মায় আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। পানির স্রোতও আগের মত নেই। প্রায় দুই দশক ধরেই পদ্মা হারিয়েছে তার আসল রূপ। আগে পদ্মার গর্জনে রাতে ঘুম আসতো না। এখন পানিও নেই, স্রোতও আর নেই। সারাদিন মাছ ধরেই সময় কাটতো জেলেদের। এখন সারাদিন নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ালেও মাছ তেমন পাওয়া যায় না। 

ইত্তেফাক/এএএম