ব্রাজিলিয়ান ঔপন্যাসিক ও গীতিকার পাওলো কোয়েলহো। তিনিই পৃথিবীর একমাত্র জীবিত লেখক, যিনি বই বিক্রির সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে স্থান করে নিয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে। তাঁর বিখ্যাত বই ‘দ্য আল কেমিস্ট’ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। পৃথিবীজুড়ে এ বইয়ের বিক্রির পরিমাণ পনের কোটি কপিরও বেশি। নতুন বছর নিয়ে তাঁর ভাবনা—
সাফল্য তাদেরই প্রাপ্য যারা সারাক্ষণ অন্যেরা কী করছে আর তারা কী করছে, সেটির তুলনামূলক আলোচনায় মেতে থাকে না। সাফল্য সেই ঘরেই আসে যেখানে প্রতিদিনের উচ্চারণ—‘আমি আজ আমার সেরাটাই করব’।
মানুষ শুধু সাফল্যের পেছনে ঘুরলেই তার দেখা পাবে—একথা বলা যায় না; কারণ সাফল্য এক জায়গায় থেমে থাকে না, বরং এটি কোনো কিছুর ফলাফল।
কোনো কিছু নিয়ে ঘোরের ভিতর থাকা প্রকৃতপক্ষে সাহায্য করে না; বরং কোন পথ বেছে নিতে হবে এবং পথের শেষ কোথায় সে জায়গাটিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বের সূচনা করে, এবং জীবনে সত্যিকারের আনন্দ নিয়ে বাঁচার মতো বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হয়।
সত্যিকারের ধনী সেই ব্যক্তি যে কিনা তাঁর প্রতি মুহূর্তের অস্তিত্বের সাথে ভালোবাসার শক্তির সংযোগ ঘটাতে পারে।
তোমার মনে অবশ্যই একটি লক্ষ্য স্থির করা আছে, কিন্তু তার মাঝেই একটু বিরতি দিয়ে যদি চারপাশের কিছু দৃশ্যপট উপভোগ করা যায় সেখানে ক্ষতি নেই।
ঠিক সেই মুহূর্তে, আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে কিছু সিদ্ধান্তে আসা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যেমন—আমার কাজগুলো করতে গিয়ে ‘আমার মূল্যবোধ কি অক্ষুণ্ন থাকবে কি-না’।
ঠিক এইরকম আরও কিছু ব্যাপারে নিজের সাথে বোঝাপড়া করা...
‘আমি কি শুধুই অন্যের খুশির জন্য কাজ করছি আর তারা আমার কাছে যেমনটি চাচ্ছেন সেটি শুধু পূরণ করে চলেছি নাকি আমি সেই কাজই করছি যেখানে আমার আত্মার সংযোগ এবং পূর্ণ উত্সাহ রয়েছে’।
‘আমি কি যেকোনো মূল্যে সাফল্য চাই, নাকি জীবনের প্রতিটি দিন ভালোবাসায় পূর্ণ থাকাকেই সার্থকতা হিসেবে ধারণ করি’
‘উত্তর নিয়ে ভেবো না, কারণ পুরো বছরজুড়েই তুমি উত্তরগুলো ঠিক করার সময় ও সুযোগ পাবে’ আর সেটিই হোক নতুন বছরের লক্ষ্য।
হ্যাপি নিউ ইয়ার।
সূত্র : পাওলো কোয়েলহো-র নতুন বছরের বার্তা, কোয়েলহোর অফিশিয়াল সাইট থেকে অনূদিত।
অনুবাদ :তাসনুভা রাইসা
