মৌসুমি

আম্রপালির বাগান

আপডেট : ২৭ জুন ২০২০, ২১:৩৩

আজহারুল আজাদ জুয়েল

 

আম্রপালি আমগাছ সাধারণত ১০-১২ বছর পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে। এরপর ফলন আর ভালো হয় না। কিন্তু দিনাজপুরের আম্রপালি আম বাগান ব্যতিক্রম। এখানে অল্প বয়সী ছোটো আমগাছে যেমন থোকা থোকা আম আছে, তেমনি ২০-২১ বছর বয়সী বড়ো আম্রপালিগাছেও গাছভর্তি আম!

অবাক করা এই আম বাগান দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের দীঘন গ্রামে। দীঘনের ঝাড়ুয়া দিঘিসহ বড়ো দুই দিঘির চারপাশে বিরাট জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে আম বাগান। সেই বাগানে গিয়ে গাছে গাছে থোকা থোকা আম দেখে মন ভরে গিয়েছিল। বাগান মালিক ও আমচাষি জয়নাল আবেদীন জানালেন, ছোটো-বড়ো মিলিয়ে প্রায় ৭০০ আম্রপালিগাছ আছে।  ১৫১টি গাছের বয়স ২০ থেকে ২১ বছর। এর মধ্যে ৮০-৮৫টিতে প্রচুর আম হয়েছে। অন্যগুলোয় কম। আর যে গাছগুলো ছোটো এবং বয়স কম—সেইসব গাছেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আম এসেছে এবার। আমফান ঝড়সহ তিনটি দুর্যোগে বিপুল সংখ্যক আম ঝরে যাওয়ার পরেও সব মিলিয়ে উত্পাদিত আমের সম্ভাব্য পরিমাণ হতে পারে ৬০০-৭০০ মণ। গত বছরের চেয়ে ১৫০-২০০ মণ বেশি বলে তাঁর ধারণা।

আম্রপালিগাছ ১০-১২ বছর হলেই ফলন পাওয়া যায় না এবং ফলন হলেও তাতে পোকা ধরে বলে শুনেছি। তাহলে ২০-২১ বছর বয়সী গাছে এত আম কিভাবে হলো? এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, এইসব গাছে আম হবে কি হবে না, তা নির্ভর করে পরিচর্যার ওপরে। সেরকম খাবারও দিতে হয়। কোন খাবারটা কখন, কোন সময়ে এবং কী পরিমাণে দিতে হবে তা জানা থাকলে এবং সেই অনুযায়ী খাবার অর্থাত্ সার, পুষ্টি প্রয়োগ করলে গাছে ভালোভাবেই মুকুল আসবে এবং আম ধরবে। আম ধরার পড়েও পরিচর্যা করতে হবে যেন আম ঠিকভাবে পুষ্ট হয় এবং ঝরে না যায়, না ফাটে এবং পোকা না ধরে। পরিচর্যাই আসল।

জয়নাল আবেদীন এক সময় দিনাজপুর সংগীত ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁর পিতা আলহাজ তফিরউদ্দিন আহমেদ উপজেলা প্রশাসন থেকে আদর্শ কৃষক হিসেবে পুরস্কৃত হন। লেখাপড়ার পাশাপাশি পিতার সঙ্গে কৃষিকাজ করতেন তিনি। চাকরি ছাড়ার পর প্রথমে মাছ চাষে জড়িত হয়েছিলেন। তাঁর উপলব্ধি—মাছে ও লিচুতে ঝামেলা বেশি, শ্রম বেশি, ঝুঁকিও বেশি। সেই তুলনায় লাভ কম। আম চাষে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। তাই তিনি মনোযোগ দিয়েছেন আম বাগান সম্প্রসারণ ও গবেষণায়। অবশ্য গবেষণাটি প্রাতিষ্ঠানিক নয়, প্র্যাকটিক্যাল। তিনি নিজে আমের চারা কলম ও রোপণ করেন।  তাঁর মতে, চারার মধ্যে ত্রুটি থাকলে ফলন কখনো ভালো হবে না।

আম্রপালি মৌসুমি আম। অল্প কিছুদিনের জন্য এই আম বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু তাতে মানুষের মন ভরে না। সারা বছর আম পাওয়া গেলে কতই না ভালো হতো। তাই বারোমাসি আম চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন—থাইল্যান্ডের ‘কাটিমন’ জাতের বারোমাসি আমগাছের ছয় হাজার চারা তৈরি করেছেন তিনি। আম গাছের ফাঁকে ফাঁকে লাগিয়েছেন পেঁপে ও লেবু গাছ। আর বারো মাসি চারা লাগিয়ে দিনাজপুরের মানুষের বছর জুড়ে আম পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আমচাষি হিসেবে সফল তিনি।