নেয়ামত উল্লাহ
দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা খরা কাটিয়েছে লিভারপুল। দলটির এ অর্জন রাতারাতি ধরা দেয়নি। কোচ য়ুর্গেন ক্লপ প্রায় চার বছর শিরোপাশূন্য থাকার পর গেল বছর খরা কাটান। চলতি মৌসুমে সে ধারাবাহিকতায় এলো প্রিমিয়ার লিগ। লিভারপুলের এ লিগ জয় বেশ কিছু শিক্ষাও দিয়েছে। সেসব শিক্ষা প্রয়োগ করলে উপকৃত হতে পারে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের স্থানীয় দলগুলোও, অভিমত বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে ও চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ মারুফুল হকের।
বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচের মতে, ধারাবাহিকতাই লিভারপুলকে শিরোপা পাইয়ে দিয়েছে। ইত্তেফাককে তিনি লন্ডন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বলেন, ‘লিভারপুল পারফরম্যান্সের দিক থেকে ধারাবাহিক ছিল। কয়েক বছর ধরেই দলটা সুস্থির ছিল, যাতে করে দলীয় সংহতি বেড়েছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড়, যারা একে অপরের জন্য পরিশ্রম করে। রক্ষণ আর আক্রমণ যুতসই ছিল, যা প্রতিপক্ষের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছিল। পুরো স্কোয়াডের সবাই কিছু না কিছু অবদান রেখেছে এ অর্জনে, বাদ যায়নি কেউ।’
জর্ডান হেন্ডারসনরা একসঙ্গে খেলছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। এমনকি নিয়মিত একাদশের সবচেয়ে নবীন সদস্য এলিসন বেকার আর ভার্জিল ফন ডাইকও ক্লাবটিতে কাটিয়ে ফেলেছেন দুই বছর। এরও সুফল পাচ্ছে লিভারপুল, অভিমত কোচ মারুফুলের। বললেন, ‘ঠিক কোচের অধীনে যুতসই দল গড়েছে তারা। দলটা তিন-চার বছর ধরেই একসঙ্গে খেলছে, যার ফলে তাদের ভেতরে বোঝাপড়াটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো ভালো হয়েছে।’
লিভারপুলের এ লিগ জয়ে শিক্ষা আছে আবাহনী-মোহামেডানসহ আর সব দেশীয় ক্লাবেরও। কোচ জেমি ডের ভাষ্য, ‘যদি বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়, তবে আমার মনে হয় এটা একটা শিক্ষা। ধৈর্যের শিক্ষা। যদি আপনি ধারাবাহিক হন এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সেরা সুযোগ-সুবিধা পান, তাহলে আপনি সফল দল তৈরি করতে পারবেন। তবে তার জন্য সময় প্রয়োজন।’
দেশের ফুটবল কাঠামোয় তাত্ক্ষণিক সাফল্যকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। যার ফলে দলীয় আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে যায় উপেক্ষিতই। জেমি ডের মতে, দৃষ্টিভঙ্গি পালটালে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যও পেতে পারত দলগুলো।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা কঠিনই। কারণ, এখানে সবাই রাতারাতি সাফল্য চায়। সবসময় সেটা সম্ভব হয় না; কারণ সাফল্য পেতে হলে একেবারে একাডেমি, বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে একটা কাঠামো দাঁড় করাতে হয় আর তাতে সময় প্রয়োজন। কিন্তু সেটা করা হলে কিছুটা সময় লাগলেও, ভবিষ্যত্টাও আরো সুরক্ষিত হতো!’
এদিকে মারুফুল টানলেন ক্লপের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে। জার্মান কোচের প্রকল্প আলোর মুখ দেখেছিল দায়িত্ব পাওয়ার চার বছর পর। সে সময়টা দেশীয় ক্লাবগুলোয় কোচদের মেলে কই! তিনি বলেন, ‘কোচদের তো সময় দিতে হবে। সময় না থাকলে পরিকল্পনাটা হয় স্বল্পমেয়াদি, খেলোয়াড়দের উন্নয়ন করানো যায় না ফলাফলে নজর দিতে হয়। আবার এক মৌসুম পরে যদি চুক্তি নবায়নও করা হয়, সেক্ষেত্রেও পুরোপুরি নতুন দল নিয়ে কাজ করতে হয়।’ তাত্ক্ষণিক সাফল্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে যদি অবকাঠামো তৈরি, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ আর কোচেদের ওপর ভরসা রাখার সংস্কৃতিটা তৈরি করা যায়, তাহলে লিভারপুলের মতো উপকৃত হবে বাংলাদেশ ফুটবলও; এতে একমত হলেন দুই কোচই।
