এম এ আলআমিন
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে কমে গেছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। ঠিক এসময় দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত দেশটি এই ভাইরাস মোকাবিলায় ভালোই তত্পরতা দেখিয়েছে। তারপরও বিভিন্ন ঘটনা বর্ণবাদী অতীতের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার, মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ (অনেকে আশঙ্কা করছেন পিক সময়টি এখনো আসেনি)। ২৭ মার্চ থেকে দেশটিতে কড়াকড়িভাবে লকডাউন দেওয়া হয়। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পুলিশকে কুকুর নিয়ে রাস্তায় টহল দিতে দেখা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় কুকুর বর্ণবাদী শাসনামলের প্রতীক। শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের দমনে ব্যবহার করত এই কুকুর। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সব ধরনের আউটডোর কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। এমনকি কুকুর নিয়ে রাস্তায় হাঁটাহাঁটিও নিষিদ্ধ করেন। বিষয়টি শ্বেতাঙ্গদের ক্ষুব্ধ করে। তারা এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা মুখর হয়। এ নিয়ে পালটা প্রতিক্রিয়া দেখায় কৃষ্ণাঙ্গরা। কৃষ্ণাঙ্গদের বেশিরভাগই সমাজের মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা বলে অসহায় প্রতিবেশীরা খবর নেয় না কিন্তু কুকুর নিয়ে দরদ দেখাচ্ছে শ্বেতাঙ্গরা।
কুকুরের ঘটনাটি একটি ইস্যু মাত্র। এরকম অনেক ইস্যু আছে যেগুলো নিয়ে ‘রংধনু দেশ’ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকায় বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। জেলডা লা গ্রেঞ্জ একজন শ্বেতাঙ্গ। তিনি দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তার একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে, এতে তিনি কর্মকর্তাদের উপদেশ দিয়েছেন বাড়ির গৃহকর্মী (বেশিরভাগই কৃষ্ণাঙ্গ) হাত ধোয়ার নিয়ম পদ্ধতি যেন শিখিয়ে দেন। ভিডিওটি কৃষ্ণাঙ্গ কমিউনিটির মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চার করে। এটি তাদের বর্ণবাদী অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয় যখন শ্বেতাঙ্গরা তাদের ওপর ছড়ি ঘোরাত। মহামারি ছড়িয়ে পড়ার শুরুর দিকের ঘটনা। শ্বেতাঙ্গ বিরোধী দল ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটার্স (ইএফএফ) পরামর্শ দিয়েছিল পরীক্ষায় যাদের ভাইরাস ধরা পড়বে তাদের রোবেন দ্বীপে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হোক। ইইএফের নেতা জুলিয়াস মালেমা বলেছিলেন, ‘কিছু আফ্রিকানের জীবনের বিনিময়ে হলেও শ্বেতাঙ্গদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে... সরকারের এদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত। তিনি ২৭ এপ্রিল এ উক্তি করেন। দিনটি দক্ষিণ আফ্রিকায় সরকারি ছুটির দিন, ২৬ বছর ধরে এটি ‘মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে এসেছে। ১৯৯৪ সালের এই দিনে দেশটির প্রথম অবাধ সর্বদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গদের দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস জয়লাভ করে। বলা অনাবশ্যক তার এ বক্তব্য কৃষ্ণাঙ্গদের কতটা উত্তেজিত করে। দেশটির ডেইলি ম্যাভরিক পত্রিকা ১৫ মে সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করে লকডাউন স্বল্পমাত্রার বর্ণবাদী লড়াইয়ের সূচনা করেছে।
