কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে কৃষককেই

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ২৩:৫০

পণ্যের মূল্য উত্পাদক নির্ধারণ করলেও কৃষিপণ্যের মূল্য কৃষক নির্ধারণ করে না। ফলে কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্যের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। করোনাকালে দেশকে বাঁচাতে কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে হবে। তাদের বাঁচাতে চাইলে কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণের সুযোগ তাদেরই দিতে হবে। এমন দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। গতকাল রবিবার ‘করোনাকালীন কৃষি বাজেটের স্ট্রিমইয়ার্ড’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনায় বক্তারা এসব দাবি করেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বারসিক ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে শস্যবিমা, পণ্যভিত্তিক উত্পাদন এলাকায় সংরক্ষণ, হিমাগার, কৃষি পরিবহনের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা, রেলগাড়িতে ফ্রিজিং কম্পার্টমেন্টযুক্ত করা, জৈব সারের নিবন্ধন সহজ করা, নতুন দরিদ্র কৃষক পরিবারের খাদ্যসহায়তা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রকাশ ও তাদের অনুদান প্রদান, নগরকৃষি, ছাদকৃষি, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ উন্নয়নে সহায়তা, পারিবারিক কৃষির উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ, জৈব বালাইনাশকের ওপর ভর্তুকি প্রদান, কৃষি শ্রমিকদের পুনর্বাসন বিষয়গুলোতে কোনো নির্দেশনা নেই। করোনাসৃষ্ট উদ্ভূত সমস্যা ও খাদ্যশস্য উত্পাদনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দকে আরো বিস্তৃত করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড এম এম আকাশ বলেন, ধান কেনার ক্ষেত্রে সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে তা কম হলেও ভালো। কিন্তু সরকার ধান খুব কম কিনছে। চাল কিনছে মিল থেকে। এতে কৃষককে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে মিলে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। তিনি সমবায় সমিতির মাধ্যমে চালকল স্থাপন ও বর্গা চাষিদের ব্যাংক ঋণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, কৃষক যাতে বাজারে সুবিধা পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামে ভালো মানের কৃষিপণ্য উত্পাদন করতে হবে। বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। আরো বক্তব্য রাখেন বারসিকের পরিচালক, গবেষক পাভেল পার্থ ও সাংবাদিক তৈমুর ফারুক তুষার। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হন কৃষি পদকবিজয়ী কয়েক জন কৃষক। তারা হলেন—জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষানি আল্পনা রাণী, ফৌজিয়া নাসরিন, মো. ইমান আলী, মো. ইয়াবর প্রমুখ।