দেশের বিভিন্ন স্থানে চাকরি দেওয়ার নাম করিয়া প্রতারক চক্র অনেক দিন ধরিয়াই চাকরিপ্রার্থীদের নিকট হইতে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতাইয়া লইতেছে। এই ধরনের ঘটনার ছোট্ট একটি নমুনা পাওয়া গিয়াছে গত শনিবার দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদে। ‘চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, বেতন চাইলে মারধর’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, প্রাইভেট কোম্পানি খুলিয়া চাকরির প্রলোভন দেখাইয়া প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হইয়াছে দুই ব্যক্তিকে। সংবাদটি হইতে আরো জানা যায়, প্রতারক চক্র ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন হইতে গালভরা নামে ট্রেড লাইসেন্স লইয়া মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকায় দুইটি অফিস খোলে। বিভিন্ন পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ফেসবুক, অনলাইন ও লিফলেটের মাধ্যমে তাহারা প্রচার করে। কোম্পানির ইউনিট ম্যানেজার, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার প্রভৃতি পদে ২০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রলোভন দেখাইয়া তাহারা বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রলুব্ধ করে। চাকরিপ্রত্যাশীদের নিকট হইতে আবেদন ফি বাবদ ১ হাজার টাকা ও প্রশিক্ষণ বাবদ ৮-১২ হাজার টাকা করিয়া নেয় তাহারা। দুই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করিয়া প্রতারণার মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দেখাইয়া এইভাবে তাহারা অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত্ করিয়া আসিতেছে।
ইহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশে যেই হারে শিক্ষিত লোকের সংখ্যা বাড়িতেছে, সেই হারে কর্মক্ষেত্র বাড়িতেছে না। অনেক বেকারের কাছেই চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। শিক্ষিত বেকাররা যে কোনোভাবে একটি চাকরি পাইতে মরিয়া থাকেন। এই সুযোগে এক শ্রেণির প্রতারক চাকরির নামে প্রতারণার ফাঁদ পাতিয়া বসিয়া আছে। এই ফাঁদে পড়িয়া অনেকেই প্রতারিত হইতেছেন। বিশেষ করিয়া ব্যাংক, বিমা, এমএলএম কোম্পানি, বিপণন কোম্পানি, মার্কেটিং কোম্পানির নামে বেশি প্রতারণা করা হইতেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাসে, জনসমাগম হয় এমন স্থানে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। দুঃখজনকভাবে প্রতারকরা চোখের সামনেই এই সকল চাকরির প্রলোভন দেখাইয়া বিজ্ঞাপন দিয়া যাইতেছেন। এমনকি এখন তাহারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চটকদার বিজ্ঞাপন দিতেছেন। এমন বিজ্ঞাপন দেখিয়া অনেক চাকরি প্রার্থী পা বাড়াইয়া নিজেদের সর্বস্ব হারাইয়াছেন। আমরা জানি, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অদক্ষ নহে। তাহাদের নিকট এই ধরনের প্রতারক চক্রকে ধরা খুব কঠিন কাজ নহে। নিঃস্ব ও অসহায় মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে সুরক্ষা দিতে আইনের যথাযথ ব্যবহার প্রয়োজন। প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতাও। যাহারা এই ধরনের প্রতারণার শিকার হন, তাহারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইহার বিরুদ্ধে লিখুন। অন্যদের সচেতন করুন।
চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার দায়ে যাহারা বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হইয়াছেন, তাহারা যাহাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়া বাহির হইয়া যাইতে না পারেন, সেই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কৌশলী হইতে হইবে। প্রতারক চক্রের উপযুক্ত শাস্তিই পারে এই ধরনের অপরাধ ও দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করিতে।
