চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর মূল্য নিয়ে সংশয়ে খামারিরা

আপডেট : ২৯ জুন ২০২০, ২১:৩৭

স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত পশু মোটাতাজা করা হয়েছে

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। তাই এবার কোরবানি কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ কম হয়নি। ফলে কোরবানি বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে খামারি ও ব্যাপারীরা। চট্টগ্রামে এবার স্থানীয়ভাবে কোরবানির পশু পালিত হয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার। তার বিপরীতে এবার কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৩১ হাজার। গত বছর চট্টগ্রামে কোরবানি হয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৯টি পশু।

করোনার কারণে গত কয়েক মাস যাবত্ দেশে বিবাহ, মেজবানসহ অন্য অনুষ্ঠান আয়োজন তেমন হচ্ছে না। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রতিদিন প্রচুর গরু-ছাগলের চাহিদা থাকে। কিন্তু অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় গরু-ছাগল জবাই না হওয়ায় খামারি ও গৃহপালিত প্রচুর গরু-ছাগল মজুত রয়েছে। ফলে কোরবানির বাজারে পশুর কোনো ঘাটতি হবে না। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয়ভাবে প্রচুর কোরবানির পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনা হচ্ছে। কোরবানির বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে মানুষ গরু কিনে দ্রুত বাজার ত্যাগ করবে।’

কোরবানি উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে প্রচুর গরু-মহিষ মোটাতাজা করা হয়। ব্যক্তিগতভাবে দুই/তিনটি গরু অনেকেই মোটাতাজা করে থাকেন। তার বাইরে অনেকে বাণিজ্যিকভাবে কোরবানির পশু মোটাতাজা করে থাকেন। চট্টগ্রামে এ ধরনের প্রায় ৮ হাজার খামারি রয়েছে। করোনার কারণে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। যারা ভাগাভাগি করে পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন এমন অনেক ব্যক্তির পক্ষে এবার কোরবানি দেওয়া সম্ভব হবে না। আবার যারা একাধিক গরু কোরবানি দিয়ে থাকেন তারা এবার কম গরু কোরবানি দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এবার বাজারে কোরবানির পশুর চাহিদা কম থাকতে পারে। এসব বিষয় মাথায় নিয়ে বাণিজ্যিকভিত্তিতে যারা গরু মোটাতাজা করেছেন তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন। আবার বাজারভিত্তিক গরু ব্যাপারীরাও এবার গরু কেনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগুচ্ছেন। গরু ব্যাপারী নুরুল ওসমান ইত্তেফাককে বলেন, আর ১০/১২ দিন পরে ব্যাপারীরা গরু কেনা শুরু করবে। বাজারে এবার গরুর চাহিদা কম থাকতে পারে।’

বাঁশখালী উপজেলার জেবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক জামাল উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, এবার কোরবানির ৪০টি গরু মোটাতাজা করেছি। সবগুলোর গরুর দাম প্রতিটি ২ লাখ টাকার ওপরে। একটি গরু মোটাতাজা করতে মাসে ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। করোনার কারণে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। ফলে গরুর ন্যায্যমূল্য পাব কি না, তা নিয়ে টেনশনে রয়েছি। যদি ভারত ও মিয়ানমার থেকে গরু আসে তাহলে দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাতকানিয়া উপজেলার খামারি শাহ আলম বলেন, এবার ৩০টি গরু মোটাতাজা করেছি। এ বছর যদি বাইরে থেকে কোরবানির পশু আসে তাহলে খামারিরা আর্থিকভাবে মরে যাবে। বাঁশখালী উপজেলার নামির এগ্রোর মালিক সিহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৪০টি গরু মোটাতাজা করেছি। এখন ন্যায্যমূল্য পাব কি না, তা নিয়ে টেনশনে রয়েছি। সাতকানিয়া বাজালিয়া এলাকার খামারি রাসেল মিয়া এবার ৫৯টি গরু মোটাতাজা করেছে। তিনিও কোরবানির বাজার নিয়ে টেনশনে রয়েছেন।’