বরিশালে দোকান-কর্মচারীদের মধ্যে ছাঁটাই আতঙ্ক
শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
বরিশালের প্রায় সাড়ে তিন হাজার দোকানের ১০ সহস্রাধিক দোকান কর্মচারী মানবেতর জীবন-যাপন করছে। গত এপ্রিল মাসে ১০ শতাংশ বেতন এবং মে মাসে অর্ধেক বেতন পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে তারা। জুন মাস শেষে অনেককেই আর কাজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।
বরিশাল মহানগর দোকান-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন দত্ত জানিয়েছেন, সারাদিন দোকানে কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পর দোকান মালিকদের মোবাইল থেকে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয় আর কাজে আসতে হবে না। কোনো প্রকার নিয়ম-নীতি না মেনেই কর্মচারীদের ঢালাওভাবে ছাঁটাই করছে দোকান মালিকরা। বরিশাল মহানগর দোকান কর্মচারী ইউনিয়নে পক্ষে তিনি অবিলম্বে দোকান কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনকে উদ্যোগী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তা না হলে দোকান কর্মচারীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের ন্যায্য টারমিনেশন বেনিফিটসহ বকেয়া পাওনা টাকা পাওয়ার বিষয়ে বরিশাল কলকারখানা অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। ঐ আবেদনের শুনানি খুব শিগিগরই অনুষ্ঠিত হবে।
একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার ঘোষিত নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছে না বরিশালের দোকান মালিকরা। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই অধিক মুনাফা লাভের আশায় তাদেরকে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। কোনো প্রকার স্বাস্থ্য উপকরণ দোকানে রাখা হচ্ছে না। ছোট্ট দোকানে বেশি কাস্টমার ঢুকিয়ে তাদেরকে বাধ্য করা হয় বিক্রি করতে। কর্মচারীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলেও মালিকরা সুরক্ষিত জায়গায় বসে তা পরিচালনা করছেন। বরিশাল মহানগর দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন সূত্র জানায়, সম্প্রতি সরকার ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নিয়ম জারি করলেও কর্মচারীদের বেলায় এটি খাটাছে না। সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কাজে যোগদান করলেও দুপুরের খাবারের সময় দেওয়া হচ্ছে না। করোনার পূর্বে দুপুরে এক থেকে দেড় ঘণ্টা খাবারের সময় থাকলেও বর্তমানে বিকেল ৪টার পরিবর্তে রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত একটানা না খেয়ে শ্রম দিতে হচ্ছে দোকান কর্মচারিদের। এত কিছুর পরও ছাঁটাই চলছে। সরেজমিনে নগরীর অধিকাংশ মার্কেট ও দোকানই খোলা দেখা গেছে। তবে খাবারের দোকান অধিকাংশই বন্ধ।
বরিশাল বৃহত্তর চকবাজার মালিক সমিতির সভাপতি শেখ তোবারক হোসেন জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে অনেক দোকান মালিক বিপাকে পড়েছেন। তবে তার দোকানের কর্মচারীদের বেতন তিনি আগের মতোই দিচ্ছেন বলে দাবি করেন। একাধিক দোকান মালিক জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দোকানের বিদ্যুত্ বিল দেওয়াই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না।
বরিশাল কলকারখানা অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক হিমন কুমার সাহা ইত্তেফাককে জানান, দোকান কর্মচারীদের যে সকল অভিযোগ তারা লিখিতভাবে পাচ্ছেন তার অনুকূলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী ৩ জুলাই এক দোকান কর্মচারীর টারমিনেশন বেনিফিটসহ বকেয়া পাওনা টাকার আবেদনের শুনানি রাখা হয়েছে। কোনো কর্মচারী হয়রানির শিকার হলে তিনি কলকারখানা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করার আহ্বান জানান।
