ইসলামে সামাজিক শান্তি শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২৭

ইসলাম বিশ্বজনীন সামাজিক শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবজাতির জন্য কল্যাণকামী একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ‘ইসলাম’ অর্থ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে তাঁর আদেশ মেনে চলার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা অর্জন। মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রাথমিক বিষয় হলো জানমালের নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার অধিকার। আর অপরকে নিরাপদ রাখা ও বাঁচতে দেওয়া সুনাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে অন্যতম—এটি ইসলামের শিক্ষা। এমন কি আমরা দেখা হলে একে অপরকে বলি- আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহ আপনার উপর শান্তি বর্ষণ করুন। অর্থাত্ পক্ষান্তরে আমরা বলি, আপনি আমার কাছ থেকে নিরাপদ। তাই পৃথিবীতে সত্য-ন্যায়ের প্রতিফলনের মাধ্যমে সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা সুরক্ষা ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বজায় রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরিহার্য কর্তব্য এবং ঈমানি দায়িত্ব। এবং মানবসমাজে কোনোরকম অশান্তি সৃষ্টি, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, সংঘাত, হানাহানি, উগ্রতা, বর্বরতা, প্রতিহিংসাপরায়ণতা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ইসলামে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সাবধানবাণী ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পর এতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না।’ (সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ৫৬)

   ইসলাম ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত ও সহিংসতাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে; সকল প্রকার হত্যাযজ্ঞ, রক্তপাত ও অরাজকতা প্রত্যাখ্যান করেছে; সত্ ও ভালো কাজে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে, পাপ ও নির্যাতনমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছে। পারস্পরিক সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চেতনা এবং অর্থনৈতিক দর্শন ও অপরাধ দমন কৌশল ইসলামকে দিয়েছে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা। কিন্তু শান্তির ধারক-বাহক জনগণের বিরুদ্ধে সর্বদাই অশান্তিকামী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী স্বার্থপর দুর্বৃত্তরা খড়গহস্ত থাকে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা (শত্রুরা) দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়, আর আল্লাহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৬৪)

   বিশ্বশান্তির ধর্ম ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে সমাজ জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা হয়। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অতর্কিত হামলা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সংঘাতমুক্ত পৃথিবীর প্রয়োজনে ইসলামের শান্তিপ্রিয় ও কল্যাণধর্মী নীতি-আদর্শ এখন সময়ের দাবি। মানুষের সামগ্রিক জীবনের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও পরিপূর্ণ নিরাপত্তা বিধানে ইসলাম এক অনন্য কালজয়ী আদর্শ। ইসলামে চরমপন্থা, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। ইসলামের যুদ্ধনীতি প্রতিরক্ষামূলক, আক্রমণাত্মক নয়—এমনকি প্রতিশোধমূলকও নয়। রাসূলুল্লাহ (স) কখনও একজন নিরপরাধ মানুষকে প্রকাশ্যে বা গুপ্তহত্যা করেননি। শত অত্যাচার ও নির্মম নির্যাতন সহ্য করেও তিনি কখনো বাড়াবাড়ি, কঠোরতা বা গোঁড়ামির পরিচয় দেননি, বরং দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইসলামের সুমহান আদর্শ সমরনীতি ঘোষণা করে প্রকৃত মুসলমানের পরিচয় তুলে ধরে নবী করিম (স) বলেছেন, ‘মুসলমান সেই ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ।’ (বুখারী ও মুসলিম)

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট অব ল্যাংগুয়েজ স্টাডিজ। প্রফেসর ও এডভাইজার, ইসলামিক স্টাডিজ ও

ইসলামের ইতিহাস বিভাগ, স্কুল অব লিবারেল আর্টস, ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা, উত্তরা, ঢাকা