পাটকল থেকে ইপিজেড

আপডেট : ২৯ জুন ২০২০, ২২:১০

আদমজী বন্ধের দেড় যুগ 

মো. মোসলেমউদ্দিন, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

আজ ৩০ জুন। এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল ‘আদমজী জুট মিল’ বন্ধের দেড় যুগপূর্তি। অব্যাহত লোকসানের কারণে ঐতিহ্যবাহী ‘আদমজী জুট মিলটি’ ২০০২ সালের ৩০ জুন বন্ধ করা হয়। ফলে তত্কালীন প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক হঠাত্ বেকার হয়ে পড়ে। ঐ সময়ে বেকার হওয়া ‘আদমজী জুট মিলে’র কোনো শ্রমিকেরই চাকরি হয়নি আদমজী ইপিজেডে। বেকার শ্রমিকদের অনেকেই অসহায় জীবন-যাপন করছেন। কেউ কেউ অন্য পেশায় গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।   

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত ‘আদমজী জুট মিল’ এলাকাটিকেই আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা করা হয়েছে। যা ২০০৬ সালের ৬ মার্চ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। রাজধানীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করে। ফলে দ্রুতই আদমজী ইপিজেডে প্রায় অর্ধশত কারখানা চালু হয়  এবং সেখানে লক্ষাধিক শ্রমিক বর্তমানে  কর্মরত।

জানা যায়, ‘আদমজী জুট মিলে’র প্রায় ২৯১ দশমিক ১২ একর জমির ওপর আদমজী ইপিজেড (এইপিজেড) গড়ে ওঠে। এতে মোট প্লট  ২২৯টি। এরই মধ্যে ৭০টি দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। স্থানীয় মালিকানাধীন ২৩টি, বিদেশি মালিকানাধীন ২৭টি এবং যৌথ মালিকানাধীন ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব কারখানায় গার্মেন্টস, জিপার, কার্টন, হ্যাঙ্গার, লেভেল, ট্যাগ, জুতা, সোয়েটার, টেক্সটাইল, মোজা, পলি ও ডায়িং ইত্যাদি পণ্য উত্পাদিত হচ্ছে। যা শতভাগ রপ্তানিযোগ্য। 

 পেছনের কথা : তত্কালীন পাকিস্তানের ২২ পরিবারের অন্যতম ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাই—ওয়াহেদ আদমজী ওরফে দাউদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী ও গুল মোহাম্মদ যৌথভাবে ১৯৫০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় ৩০০ একর জমি নিয়ে ‘আদমজী জুট মিল’ স্থাপন করেন। ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৭০০ হেসিয়ান ও ১ হাজার সেকিং লুম দিয়ে শুরু হয় উত্পাদন। ঐ সময় মিলটিতে ২৪ হাজার ৯১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক কাজ করতেন।