সুনামগঞ্জ জেলায় এবারও ছোট-বড় ৩৭টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাউবো)। এবার এই জেলার হাওরে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকরা এখন বীজতলা তৈরি, জমি তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করেছেন পুরোদমে। সিলেটসহ নানা স্থনের হাওরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে বাঁধ নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু ও শেষ করলেই কৃষকরা খুশি। তারা জানান, নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ না হলে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নেমে বোরো ধান পাকার আগেই তলিয়ে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় ছোট-বড় ১৫৪টি হাওরে বোরো ধানের আবাদ হয়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩৭টি হাওরের বোরো রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষাবাদ হয়েছিল বোরো জমি। মোট ২ লাখ ২২ হাজার ৭১৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। গত বছর ধানের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৯২ টন। কিন্তু উত্পাদন হয়েছিল ১৪ লাখ টনেরও বেশি। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় বোরো ধানের চাষাবাদ পুরোদমে চলছে। বিভিন্ন হাওরের ধান রোপণ প্রায় শেষপর্যায়ে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এবার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৫৫৩টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৯৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দের আবেদন করা হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনে নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে এবার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেক স্থানে কমিটির (পিআইসি) কাজ শুরুই করা যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক ভূঁইয়া গতকাল বৃহস্পতিবার ইত্তেফাককে বলেন, আশা করি শীঘ্রই পুরো দমে কাজ শুরু করা যাবে। সূত্র মতে, গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন হওয়ার কথা ছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে যথাসময়ে পিআইসি গঠনের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। কাবিটা নীতিমালা অনুসারে ১৫ ডিসেম্বর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ শেষ করার কথা। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, গত বছর প্রায় ৮০০ কিলোমিটার নতুন বাঁধসহ মোট ১ হাজার ৪৯০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। চলতি বোরো মৌসুমে ২৩ কোটি টাকা দিয়ে পিআইসির প্রথম কিস্তি প্রদান করা হবে। জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠক হয়েছে। বৈঠক থেকে সকল উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দ্রুত পিআইসি গঠন ও বাঁধের কাজ শুরু করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, আমাদের দাবি- প্রকৃত কৃষকদের সমন্বয়েই যেন কমিটিগুলো করা হয়। আর কমিটিগুলো নজরদারিতে থাকলে কাজ আদায় করা সম্ভব। তিনি বলেন, গতবার কাজ যতটুকু হয়েছে খারাপ হয়নি। প্রকৃতি সদয় থাকায় পুরো ফসলই গোলায় তোলা গেছে। আমরা প্রত্যাশা করি, এবারও হাওরের মানুষ সম্পূর্ণ ফসল গোলায় তুলতে পারবেন।
