বগুড়ায় তিন উপজেলার ৮৮ গ্রামে বন্যা

গবাদি পশু নিয়ে কৃষক খামারিরা দিশেহারা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ২১:০৭

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ায় তিন উপজেলায় বন্যার পানিতে ভাসছে ৮৮টি গ্রাম। বন্যার পানি ৪ সেন্টিমিটার কমলেও এখনো সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় বন্যার পানি লোকালয় থেকে তেমন কমেনি। শুক্রবার তিনটি উপজেলার ৮৮টি গ্রামে যমুনা নদী এলাকায় ফসলের খেতে ও বসতবাড়িতে পানি জমে আছে। সবচেয়ে বিপদে রয়েছে গবাদি পশু পালনকারী কৃষক ও খামারিরা।

বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী মণ্ডল জানান, জেলার তিনটি উপজেলা সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার যমুনা তীরবর্তী চরাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার ৩০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি উপজেলার ৮৮টি গ্রামে পানি এসেছে। যমুনাসংলগ্ন তিন উপজেলায় আউশ ধান, পাট, আখসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাজ জানান, ধুনট উপজেলার ভান্ডাবাড়ি ইউনিয়নে ১২টি গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এই ইউনিয়নের আউশ ধান, পাট, আখসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের দুর্গম হাটবাড়ি চরে যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে টিনের বেড়ার ঘরে বসবাস গণি সরকারের। যমুনা নদীর ঢলে প্লাবিত বসতঘর। ঘরের উঠানে থইথই পানির স্রোত। চাল-ডাল, কাঁথা-বালিশ আর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন নৌকায়। গোয়ালঘরে বুকসমান পানি ওঠায় বসতবাড়ির খানিকটা দূরে উঁচু জায়গায় খোলা আকাশের নিচে ১৩টি গরু আর ১০টি ছাগল বেঁধে রেখে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। গণি সরকার বলেন, ‘সাত দিন থেকে জলে সংসার। নিজেরাই নৌকায় থাকছি। গোয়ালঘরে বুকসমান পানি। গরু-ছাগল রাখার একটু জায়গা নেই। জমিতে দুই বিঘা ঘাস ছিল, বন্যায় শেষ। খড় নাই, ভুসি নাই। নিজেরাই খাবার পাচ্ছি না, গরু-ছাগলকে খাবার দেব কেমন করে ?’ শুধু গণি সরকার নন স্ত্রী আর তিন সন্তান আরো অনেককে নিয়েই আশ্রয় নিয়েছেন নৌকায়। গবাদি পশু রেখেছেন একটু উঁচু জায়গায়। কিন্তু তাদের কোনো খাবার দিতে পারছেন না। দিনমজুর আজিজারের স্ত্রী নুরুন নাহার বলেন, ‘যমুনার ঢলে গোটা চর ভেসে গেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই। সুজনেরপাড়া চরের কৃষক সাইফুল ইসলামের বসতভিটা যমুনায় ভেসে গেছে। ঠাঁই নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী গুচ্ছগ্রামে। তিনি বলেন, নিজেরা না খেয়ে আছি। তিনটি গরু নিয়ে আরো মুশকিলে পড়েছি।’

সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, বন্যা ও নদীভাঙনে তার ইউনিয়নে তিনটি চর বিলীন। আশ্রয়হারা সাড়ে ৩ হাজার মানুষ। ঘরহারা মানুষের নিজেদেরই মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। গোয়ালের গরু-ছাগল নিয়ে দিশেহারা তারা। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল মিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য গোখাদ্যের কোনো বরাদ্দ আসেনি। বন্যাদুর্গত এলাকায় গবাদি পশু নিয়ে খামারিদের সংকট সমাধানে উপজেলায় চারটি মুজিব কেল্লা নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।