মিথ্যা অপহরণ মামলায় চাচাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চাপ প্রয়োগ!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
আতঙ্ক স্কুলছাত্রী সামিয়ার চোখে-মুখে। ‘ধর্ষিত হয়েছে সে’—মামলা কড়া করতে এই বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে তাকে। তা না হলে আবারও চট্টগ্রামে জেলে (নিরাপত্তা হেফাজতে) পাঠানো হবে বলে ভয় দেখানো হয়। সপ্তাহখানেক আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি থেকে বাঁচানোর আবেদন জানায় সামিয়া। বলে—আপন চাচা-চাচি ও প্রতিবেশীদের ঘায়েল করার অস্ত্র বানিয়েছে মা শাহেনা বেগম তাকে। ২৬ দিন নিরাপত্তা হেফাজতে থেকে বাড়িতে আসার দুই/তিন দিন পরই মা তাকে নিয়ে যান আবারও উকিলের কাছে। মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে মা আর উকিলের চাপ, থানা-পুলিশের ভয়ভীতি, নিরাপত্তা হেফাজতে দিন গুজরানে বিপর্যস্ত এই কিশোরী। এর আগে এই নাবালিকাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। সবমিলিয়ে আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে তার মনে। পড়াশোনা উঠেছে লাটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের টিঘর গ্রামের মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী আবু সায়েদ মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৪)। স্থানীয় ব্লুবার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সে। মেয়ে সামিয়াকে অপহরণের অভিযোগে শাহেনা গত ২৯ মে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে টিঘর গ্রামের ইয়াছিন মিয়াসহ (২২) সাত জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে সামিয়ার দুই চাচা কাশেম মিয়া ও আবদুস সাত্তার মিয়াও রয়েছেন। আবদুস সাত্তার ইতিপূর্বে এই থানায় কর্মরত এএসআই হেলালের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার বাদী।
অপহরণ মামলা দায়ের হওয়ার আগে ২৭ মে সামিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেয় সামিয়া। এতে তার মা শাহেনা বেগম জোর করে রবিন নামে এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে চায় বলে অভিযোগ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরাইল থানার ওসি ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে বিষযটি তদন্ত করতে বলেন। কিন্তু এই অভিযোগের তদন্ত বাদ রেখে ওসি শাহেনার দেওয়া অপহরণ মামলা রেকর্ড করেন। সামিয়া জানায়, ‘আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। এরপরও পুলিশ আমার চাচাতো ভাই ও চাচাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। আমি গেলে তাদের ছেড়ে দেব বলে আমাকে থানায় নিয়ে আটক করে। ওরা আমারে অপহরণ-ধর্ষণ করছে এই কথা বলার জন্যে ভয়ভীতি দেখানো হয়।’
দেশে স্ত্রীর এই কাণ্ড-কারখানায় দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম সামিয়ার বাবা সৌদি প্রবাসী আবু ছায়েদের। ফোনে বলেন, ‘আমার মেয়েকে কেউ অপহরণ করেনি। আমার স্ত্রী অন্যের প্ররোচনায় আমার ভাইদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত পাঁচটি মিথ্যা মামলা করেছে।’ অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. খলিলুর রহমান এসব অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘আসামি পক্ষ এসব কথা বলবেই।’ মামলা রেকর্ড ওসি করেন জানিয়ে তিনি এ ব্যাপারে তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। সরাইল থানার ওসি আল মামুন মুহাম্মদ নাজমুল আলম বলেন, ‘মা অপহরণের অভিযোগ দিলে আমরা মামলা নিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতার করি।’ ইউএনওর কাছে কিশোরীর দেওয়া অভিযোগের তদন্তের বিষয়েও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি তার কাছে।
