নকল জীবাণুনাশক পণ্যে বাজার সয়লাব

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ২২:২৬

কাঁচামাল সংকটে চাহিদা মিটাতে পারছে না উত্পাদনকারী মূলধারার প্রতিষ্ঠান

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে জীবাণুনাশকের ব্যবহার। ফলে এই পণ্যের ব্যাপক চাহিদাও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার জোগান প্রয়োজন মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না কাঁচামালের স্বল্পতার কারণে। দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছিল ৮ মার্চ। তারপর থেকে হুহু করে বাড়তে থাকে জীবাণুনাশক পণ্যের চাহিদা। দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি উত্পাদক প্রতিষ্ঠান বলছে চাহিদা অনুযায়ী তারা বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না, কাঁচামাল সংকটের কারণে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে ছেড়েছে নকল জীবাণুনাশক পণ্য। এই পণ্য আবার বিক্রিও হচ্ছে চড়া দামে। এ অভিযোগে এরই মধ্যে কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সাতটি কোম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। তারপরেও এখনো অনেক জায়গায় অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে স্যাভলন কিংবা সেপনিলের মতো জীবাণুনাশক লিকুইডের বোতলগুলো।

যমুনা ফিউচার পার্ক শপিংমলে একজন ক্রেতা একটি ৫০ মিলিলিটার স্যানিটাইজারের বোতল ক্রয় করেন ২৫০ টাকা দিয়ে। যা আগে পাড়ামহল্লার যে কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া যেত ৩৫ থেকে ৭০ টাকায়। কিন্তু মার্চের ১৫ তারিখের পর থেকে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, সাবান ও জীবাণুনাশকসহ সব পণ্যের বার্ষিক চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি টাকার মতো। যা এ বছর ৬ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। উত্পাদক কোম্পানিগুলো বলছে, তারা সর্বোচ্চ উত্পাদন করেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছে না। তারা বলছেন, জীবাণুনাশক সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড রাব, জীবাণুনাশক লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক, বেবি ওয়াইপসেরও মতো পণ্যগুলোর চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে অ্যান্টিসেপটিক সাবানের বিক্রি ও ব্যবহার। একই সঙ্গে বাসা বাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যবহার ও বিক্রি বেড়েছে লিকুইড অ্যান্টিসেপটিকের। একজন দোকানদার বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০টা করে লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক বিক্রি করছি। আগে যেখানে বিক্রি হতো দিনে বড়জোর দুইটা।