চট্টগ্রাম কাস্টমসে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায়

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ২২:২৮

চট্টগ্রাম কাস্টমসে ২০১৯-২০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। অর্থাত্ প্রায় ২৮ দশমিক ৩৬ ভাগ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১ হাজার ৮১০ কোটি টাকা কম। গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারির কারণে উচ্চ শুল্কহারযোগ্য পণ্যের আমদানি কমে যাওয়া এবং আগের বছরের তুলনায় লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৫ ভাগ বেশি ধরায় শুল্ক আদায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

গত ৩০ জুন পর্যন্ত শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। অথচ আদায় হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, বছরের শুরুতে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরম্ভ হলে বাংলাদেশে পণ্য আমদানিসহ অন্যান্য উত্পাদনশীল খাতে মন্থর অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। মার্চ মাসে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের কারণ লকডাউন শুরু হলে পণ্য আমদানি হ্রাসসহ সব খাতে স্থবিরতা দেখা দেয়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। দোকানপাট প্রায় বন্ধ থাকায় অনেক ছোট-বড় মিলকারখানা এবং উত্পাদন খাত বন্ধ রয়েছে। ইতিপূর্বেকার ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে আসা পণ্যের বিপুল পরিমাণ বন্দর থেকে খালাস না করায় তার শুল্ক পাওয়া যায়নি। আবার ধারাবাহিক অনেক পণ্যের আমদানি বন্ধ কিংবা কমে যাওয়ার কারণে শুল্ক আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কমে গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে যে সব পণ্য থেকে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছিল, তার মধ্যে অন্তত ২০টি পণ্য যাচাই করলে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ঐ পণ্য আমদানি কম হয়েছে এবং ফলে শুল্কও কম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল, পিস্টন ইঞ্জিন, হাইস্পিড ডিজেল অয়েল, লুব্রিকেশন অয়েল, ভেসেল, অপরিশোধিত তেল, পুরাতন কার, সিমেন্ট ক্লিংকার, ব্ল্যাক টি পারমেন্টেড, লিথিয়াম আয়রন, আদার ইলেকট্রিক কন্ডাক্টর, ফিনিশিং সিরামিক, বোর্ডস, লুব-বেইজ অয়েল, পেট্রোলিয়াম অয়েল, সিকোড ট্রাক, রোলড কয়েল, সিএনজি থ্রি হুইল, ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন, রিফাইন্ড কপার ও অন্যান্য কয়েল। এই সব পণ্য বাবদ ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কম পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। আবার অন্য এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক সচরাচর সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয় এমন ২০টি পণ্যের মধ্যে ৯টি পণ্যেই কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।

কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে পণ্যের আমদানি সম্পর্কিত। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেখা যায়, লক্ষ্যমাত্রা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ। কিন্তু বছর শেষে দেখা যায়, আমদানি বৃদ্ধির পরিমাণ মাত্র ৭ ভাগ। আবার সরকারের মেগা প্রকল্প ও উন্নয়ন     প্রকল্পের পণ্যসামগ্রীর আমদানি অনেক বেড়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্পের পণ্যের আমদানি শুল্ক না থাকায় আমদানি বেশি হলেও শুল্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। উচ্চ শুল্কযোগ্য পণ্য যত বেশি আসবে তা রাজস্ব আদায়ের পরিমাণের ওপর প্রভাব ফেলবে। কাস্টমস এবং সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের মতে বিশ্ববাজারে গত বছর অনেক পণ্যের দাম কমে গেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কম ভ্যালুয়েশনের ভিত্তিতে শুল্কায়ন করায় শুল্কের পরিমাণও কমে গেছে।

এদিকে চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম অনেক কমে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে কাস্টমস পণ্যের মূল্য বেশি ধরে শুল্কায়ন করছে। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকার পরও অতিরিক্ত লোড আমদানিকারকদের পণ্য আমদানিতে নিরুত্সাহিত করবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক শুল্ক আদায় কম হওয়ার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম অনেকগুলো কারণ চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মহামারিসহ সার্বিক বিভিন্ন কারণে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে আমদানি কমে গেছে। উচ্চ শুল্কযোগ্য পণ্য আমদানি কমে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যের জট তথা আমদানিকারকগণ পণ্য খালাস না করা এবং অনেক পণ্য চট্টগ্রাম কাস্টমসের মাধ্যমে না হয়ে দেশের অন্যান্য স্টেশন থেকে খালাস হওয়ার কারণেও রাজস্ব কমেছে।