ব্যাপারীর দেখা নেই

গরু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় বেড়ার খামারিরা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ২২:৪৮

করোনা মহামারির পরিস্থিতিতে এবারে কোরবানির হাটে গরু বিক্রি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পাবনার বেড়া উপজেলার প্রায় ৫ হাজার খামারি ও চাষি। এবারের কোরবানির হাটের ওপর ভরসা করতে পারছেন না তারা। এ কারণে এখন থেকেই তারা অনেক যত্ন ও ধার-দেনায় বড় করা গরুগুলোকে বিক্রির চেষ্টা করছেন। কিন্তু অন্য বছরের মতো এবারে গরু কেনায় আগ্রহী ব্যাপারীদের দেখা মিলছে না। ক্রেতার অভাবে হাটে নিয়েও গরু বিক্রি করা যাচ্ছে না।    

বেড়া উপজেলা দেশের অন্যতম গরু লালনপালনকারী উপজেলা বলে পরিচিত। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও খামারিদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার খামারে এবার ২০ হাজারেরও বেশি গরু কোরবানির হাটকে সামনে রেখে বড় করে তোলা হয়েছে। প্রতি বছর কোরবানির হাট শুরুর মাস দেড়েক আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকার গরুর ব্যাপারীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরু কেনা শুরু করেন। এ ছাড়া উপজেলার পশুর হাটগুলো থেকেও বেপারীরা গরু কিনে থাকেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার গরু কেনায় আগ্রহী ব্যাপারীদের দেখা নেই। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গরু পালনকারীরা। তাদের আশঙ্কা এবারের কোরবানির হাটে ক্রেতার অভাবে কম দামে গরু বিক্রি করতে হতে পারে। তাই তারা এখনই গরু বিক্রির চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গরু পালনকারী খামারি ও চাষিরা নিজেরাই স্থানীয় গরুর ব্যাপারীদের সঙ্গে গরু বিক্রির জন্য যোগাযোগ করছেন। অনেকেই স্থানীয় পশুর হাটগুলোতে পালন করা গরুগুলোকে বিক্রির জন্য তুলছেন। কিন্তু খুব একটা বিক্রি হচ্ছে না।

বেড়ার অন্যতম গরুব্যবসায়ী পৌর এলাকার বৃশালিখা মহল্লার আব্দুল মোমিন জানান, অন্য বছর এ সময়টাতে গরুর ব্যাপারীরা ঢাকার কোরবানির হাটকে সামনে রেখে গরু কেনা শুরু করে দেন। কিন্তু এবার বেশির ভাগ ব্যাপারী ভালো দাম পাবেন না, এই ভয়ে গরু কিনছেন না। গত বছর তিনি এ সময়ের মধ্যে ৬০টির মতো গরু কিনেছিলেন। কিন্তু এবার কেনেননি। তিনি বলেন, করোনার কারণে হাটে গরুর দাম কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই তিনি গরু কিনছেন না।

বেড়া পৌর এলাকার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খামারি মাহফুজা মীনা বলেন, ‘আমার খামারে কোরবানির হাটে বিক্রির উপযোগী পাঁচটি বড় আকারের ষাঁড় রয়েছে। অন্যবার ব্যাপারীরা বাড়িতে এসে দামদর করে গরু কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবার কারোরই দেখা নেই। দামও একেবারে কম। তাই ঠিক করেছি কোরবানির পরে এগুলো বিক্রি করব।’

গত ৩০ জুন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পশুর হাট বেড়া পৌর এলাকার করমজা হাটে গিয়ে দেখা যায়—প্রচুর খামারি ও চাষি গরু বিক্রির জন্য এসেছেন। কিন্তু হাটে ক্রেতা নেই বললেই চলে। গরু নিয়ে আসা সাঁথিয়ার সোনাতলা গ্রামের আলাউদ্দিন আলী, শহীদনগর গ্রামের লিয়াকত আলীসহ কয়েক জন জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তাদের অনেকেই গরু কিনেছেন। গরুর খাবার কিনতে হয়েছে ধারদেনা করে। এ অবস্থায় গরুর দাম না পেলে বিপদে পড়তে হবে তাদের। অন্য বছর এই সময়ে বাড়ি থেকেই গরু বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু এবার হাটে এনেও বিক্রি করা যাচ্ছে না। সামনের কোরবানির হাটে গরুর দাম নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

করমজা পশুর হাট পরিচালনাকারীদের অন্যতম মিজানুর রহমান বলেন, ‘কোরবানির হাটের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না গরু পালনকারীরা। তাই তারা এখনই হাটে গরু নিয়ে আসছেন। কিন্তু হাটে বেচাকেনা নাই। অন্যান্য বছর এই সময়ে মানিকগঞ্জ, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা দলে দলে আমাদের হাটে গরু কিনতে আসতেন। এবার তাদের দেখা নেই।’