সম্প্রসারণবাদীরা মুছে যায় ইতিহাস তার সাক্ষী

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ২২:৪৯

আকস্মিক সফরে লাদাখ সফরে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, সম্প্রসারণবাদীরা শান্তি বিঘ্নিত করে। তাদের যুগ শেষ। এখন উন্নয়নের যুগ। তিনি ভারতের সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। একই দিনে চীন সতর্ক করেছে, দুই দেশের এমন কিছু করা উচিত হবে না যাতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়। দেশটি প্রধানমন্ত্রী মোদির সম্প্রসারণবাদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার

সম্প্রসারণবাদীরা মুছে যায় :মোদি

গতকাল লাদাখ সফরে যাওয়ার কথা ছিল ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাত্ সেই সফর স্থগিত করা হয়। আর তার স্থলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। মূলত সেনাসদস্যদের মনোবল বাড়াতেই তার এই সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, লাদাখের সব নদী, সব স্রোত, সব নুড়ি জানে এটা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, সম্প্রসারণবাদের যুগ শেষ, এখন উন্নয়নের যুগ। সম্প্রসারণবাদীরা শান্তি নষ্ট করে। তার দাবি, লাদাখ ভারতের মাথা ও সম্মানের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, লাদাখ চক্রান্ত ব্যর্থ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাতৃভূমি রক্ষায় আপনাদের সাহস অসামন্তরাল। আপনাদের দৃঢ়তা ততটাই উঁচু যতটা উঁচুতে আপনারা অবস্থিত। আপনাদের বাহু ততটাই শক্ত, যতটা শক্ত পর্বত আপনাদের ঘিরে রেখেছে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘ভারত মায়ের শত্রুরা আপনাদের প্রত্যাঘাত দেখেছে। এই পরিস্থিতিতে আপনারা সেরাটাই দিয়েছেন। দুর্বলতা শান্তি আনতে পারে না। সাহসীরাই পারে। আপনারা সেরাটাই করে দেখিয়েছেন। আমি আপনাদের প্রণাম করতে চাই।’ সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব ভোরে ঐ এলাকায় গিয়ে পদাতিক সেনা, বিমান বাহিনী, আইটিবিপি (ইন্দো-টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশ) এর সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে ভারত তার সামরিক শক্তি বাড়াতে রাশিয়ার কাছ থেকে ৩৩টি ফাইটার জেট কিনছে।

মোদির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান চীনের

ভারতে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি চীনকে সম্প্রসারণবাদী বলার সমালোচনা করে বলেন, চীন তার ১৪ প্রতিবেশী দেশের ১২টির সঙ্গেই সমঝোতার ভিত্তিতে সীমান্ত সমস্যার সমাধান করেছে। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই চীনকে সম্প্রসারণবাদী বলাটা একেবারেই প্রতারণামূলক, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত। এর আগে গতকাল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে। তাই এই সময়ে এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যায়। বিভিন্ন চীনা পণ্য বয়কট ও অ্যাপ নিষিদ্ধ সম্পর্কে মুখপাত্র বলেন, এভাবে কৃত্রিম বাধা তৈরি করলে আখেরে ভারতেরই ক্ষতি হবে। ভারতে চীনের ব্যাবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতে বেইজিং সবসময়ই সচেষ্ট থাকবে বলে উল্লেখ করেন ঝাও লিজিয়ান।