শিল্প খাতের চাহিদামাফিক শিক্ষা কারিকুলাম চান উদ্যোক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ব্যবসা বাণিজ্যিক কার্যক্রম সহজ করার সূচকে এখনো তলানিতে বাংলাদেশের অবস্থান। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন স্তরে বিস্তর আলোচনা হলেও অগ্রগতি সামান্য। গতকালও ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) ইস্যুটি উঠে এসেছে। আলোচনায় ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করার তাগিদ দিয়েছেন। বিশেষত সম্প্রতি চীন থেকে স্থানান্তর হওয়া বিনিয়োগ ধরতে এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ওই আলোচনায় খোদ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামও বলেছেন, ব্যবসা সহজ না করলে বিনিয়োগ আসবে না। তিনি বলেন, বেসরকারি খাত চায় সরকারের সেবা যাতে দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়। তারা চায় সহজে একক দরজায় সরকারি সেবা। আমরা চাই লাভালাভের ভিত্তিতে (উইন উইন সিচুয়েশন) বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। এ সময় তিনি বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশ যে তলানিতে অবস্থান করছে, সে বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ব্যবসা সহজ করার সূচকে উন্নতি করার জন্য গত এক বছরে অনেক কাজ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কারোনা পিছিয়ে দিয়েছে। তবু আশা করছি এবার অগ্রগতি হবে।
‘কোভিড-১৯ পরবর্তী বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রস্তুতি : বিনিয়োগ ও দক্ষতা’ শীর্ষক ওই ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি শামস মাহমুদের সভাপতিত্বে এতে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় বক্তারা শিল্প খাতের চাহিদামাফিক পাঠ্যসূচি প্রণয়নের তাগিদ দেন।
শামস মাহমুদ করোনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুঁজির স্বল্পতা ও বাজার সংকোচনের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প, এসএমই খাত এবং ইনফরমাল খাতে বেকারত্বের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ২০ শতাংশ আসে শিল্প খাত হতে, তবে পর্যাপ্ত শ্রমশক্তি থাকা সত্ত্বেও আমাদের দক্ষ শ্রমিকের যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির সংকট উত্তরণ ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে শিক্ষা কারিকুলামের সংস্কার ও শিল্প খাতে চাহিদামাফিক শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা কাজে লাগানো, বিদেশি বিনিয়োগ স্থানান্তরের সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা, প্রবাস থেকে ফেরত আসা কর্মী এবং স্থানীয় শিল্প খাত থেকে কর্ম হারানো শ্রমিকদের শিল্প খাতে পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য সহযোগিতা প্রদান এবং প্রণোদনা প্যাকেজ হতে এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ প্রদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে সরকারি পলিটেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য বিদ্যমান বয়সের যে প্রতিবন্ধকতা ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন গ্র্যাজুয়েট এবং বিদেশফেরত কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী বলেন, দেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বয় আরো বাড়ানো প্রয়োজন। এর মাধ্যমে শিল্প খাতের চাহিদামাফিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু এবং দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিজনেস ইন্টিলিজেন্স লিমিটেডের উদ্যোক্তা শাকিব কোরেশি। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক ড. মো. শাখাওয়াত আলী, বাংলাদেশ-ফিলিপাইন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি প্রকৌশলী আকবর হাকিম, দি কম্পিউটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার আতিক-ই-রাব্বানী, ডিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মোহাম্মদ বাশিরউদ্দিন প্রমুখ।
