কঠোর অবস্থানে চট্টগ্রাম কাস্টমস

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২০, ২২:৪৪

পণ্য আমদানিতে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য টেনে ধরতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন আইন অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিতে ব্যর্থ হয়ে কাস্টমস থেকে পণ্য ছাড়করণে বিরত থাকেন। কেউ কেউ বিভিন্ন অজুহাতে মামলা ঠুকে দেন। অনেকে পণ্য আমদানির পর বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে পণ্য খালাস করেন না। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে মালামালের স্তূপ জমে যায়। এসব পণ্য নিলামের জন্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিলামে উঠালেও সন্তোষজনক নিলাম মূল্য না পাওয়ায় একাধিকবার নিলাম ডাকতে হয় কাস্টমসকে। ফলে বছরের পর বছর ধরে নিলামের পণ্যের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সচরাচর আমদানি করা পণ্যের নিলাম হলেও পণ্যের আমদানিকারকের বিরুদ্ধে কাস্টমসের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় না। বর্তমানে কাস্টমস নিলামে যাওয়া পণ্যের আমদানিকারকের বিরুদ্ধে জরিমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায়। আমদানিকারক জরিমানা পরিশোধ না করলে ঐ আমদানিকারকের নতুন আমদানি পণ্য খালাস স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়। চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম জানান, ‘এতে করে মিথ্যা ঘোষণায় কিংবা পণ্য খালাস না করার প্রবণতা অনেকটা হ্রাস পাবে। ফলে নিলামের পণ্য কমে আসবে।’

আবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন আইন অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন দ্বিগুণ জরিমানা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ চার গুণ পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। আগে সর্বনিম্ন জরিমানার কোনো বিধান ছিল না। এতে করে জরিমানা নির্ধারণ নিয়ে দেন-দরবার বা কর্মকর্তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা নির্ভর করত। জরিমানার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা বিধান না থাকায় অবৈধ ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রে তার সুযোগ গ্রহণ করে আসছেন। 

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম ইত্তেফাককে জানান, ‘নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক একই হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে সরকারের রাজস্ব অনেক বাড়বে। এটা সবাইকে মেনে চলা উচিত।’