সুনসান সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ২১:৩৬

হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সিলেটের পর্যটন খাতে নেমেছে ধস। সিলেটের শতাধিক স্পটে এখন সুনসান নীরবতা। লোকসান গুনতে হচ্ছে হোটেল-মোটেলসহ এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছোট-বড় ব্যবসায়ীকে। ছোট-বড় পাহাড় টিলা, চা-বাগান, ঝরনা, হাওর-বিল সবই এখন ফাঁকা। সৌন্দর্যের রানী জাফলং, জলাবন রাতার গুল, মাধবকুন্ডের ঝরনা, মালনিছড়া চা-বাগান ও লাউয়াছড়া, টাঙ্গুয়া কিংবা হাকালুকি হাওরে নেই পর্যটকদের কোলাহল। বিশাল হাওরে ঢেউয়ের সঙ্গে দুলতে থাকা নৌকাগুলো আর দেখা যায় না। আষাঢ়ের কালো আকাশে সাদা মেঘরাজি খাসিয়া-জৈন্তা সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় উড়ে বেড়ানোর দৃশ্যও দেখার কেউ নেই। অথচ তিন মাস আগেও এসব পর্যটন স্পটগুলো জীবনের স্পন্দন আর জীবিকার উত্স ছিল। এখন এসব স্থানে জীবন থমকে গেছে। ভরদুপুরেই বন্যপ্রাণির আনাগোনা, ঝি ঝি পোকার শব্দ। ‘সিলেটে অন্তত ২০০ আবাসিক হোটেল, দেড় শতাধিক রেস্টুরেন্ট বন্ধ, সবাই লোকসানে,’ মন্তব্য করে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এটিএম সুয়েব বলেন, ‘পর্যটন শিল্পের অবস্থা করুণ। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে সিলেটে। হাজার শ্রমিক বেকার। ’ তিনি বলেন, সিলেটে শতাধিক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট বারো মাসই পর্যটকমুখর থাকে। কিন্তু এ জায়গাগুলো এখন জনমানবশূন্য। ধস নেমেছে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসা-বাণিজ্যে।

৮ মার্চ থেকে পর্যটন ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে আসলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে না পারায় অনেকেই হোটেল বন্ধ করে দেন। দরগা গেইটস্থ হোটেল হলি গেইটের জেনারেল ম্যানেজার শেখর ঘোষ জানান, পর্যটক না থাকায় ইতিমধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া দরগা এলাকার অধিকাংশ হোটেলই বন্ধ। নৌকা ভ্রমণের অন্যতম স্থান বিছানাকান্দি, টাঙ্গুয়ার হাওর, রাতারগুলে কয়েকশ নৌকার মাঝি বেকার। ঐসব এলাকায় গড়ে ওঠা দোকানপাটও বন্ধ। বিছনাকান্দির মাঝি আকবর জানান, পিয়াইন নদীতে সারাদিন শত নৌকা ব্যস্ত থাকত। সব নৌকা এখন ঘাটে বাঁধা। পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনায় মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিরাও খাদ্য সংকটে পড়েছে। হোটেল রেস্তোরাঁ খোলা না থাকায় তাদের বেঁচে থাকাটাও কষ্টের হয়ে পড়েছে। অবশ্য কিছু সংগঠন পশুপাখিদের দুঃসময়ে এগিয়ে এসেছে।

এবিএম ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী শিল্প উদ্যোক্তা একে এম আতাউল করিম জানান, সিলেট পর্যটন এলাকা। এ শিল্পে বড় একটা ধাক্কা লেগেছে। সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্টহাউজ ওনার্স গ্রুপের সভাপতি সুমাত নূরী চৌধুরী বলেন, অন্য বছর এই সময়ে সবকটি হোটেলে সাধারণত ৮০ ভাগ বোর্ডার থাকতেন। এখন তা শূন্যের কোঠায়।