করোনায় দুশ্চিন্তায় যশোরে খামারিরা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ২১:৩৬

এক গরুর দাম ৫০ লাখ টাকা!

যশোর অফিস

একে করোনা সংক্রমণ, তার ওপর চাহিদার তুলনায় বেশি উত্পাদন—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন যশোর জেলার গরুর খামারিরা। তাদের শঙ্কা বর্তমান পরিস্থিতিতে কমে যেতে পারে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। এরই মধ্যে আবার বিশালাকৃতির এক গরুর দাম হাকা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শফিউল আলম বলেন, এবার কোরবানির জন্য জেলায় ৬০ হাজার গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে। প্রস্তুত ৬৭ হাজারের বেশি। অর্থাত্ চাহিদার চেয়ে ৭ হাজার উত্পাদন বেশি। করোনার কারণে কোরবানির পশু বেচাকেনায় কতটা প্রভাব পড়বে, সেটি আগেই বলা যাচ্ছে না। সাধারণত ঈদুল আজহার ১০-১২ দিন আগে পশু বেচাকেনার তোড়জোড় শুরু হয়।

খামারিরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারাবছর পশু লালনপালনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। আর সেই ঈদেই পশু বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বাড়ি বাড়ি গরু কেনার জন্য ব্যাপারীদের দেখাও মিলছে না। বাঘারপাড়া পৌরসভার দোহাখোলা এলাকার খামারি ইকবাল কবির বলেন, আমরা সারাবছর গরু মোটাতাজা করি কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য। সেগুলো যদি বিক্রি করতে না পারি, তাহলে অনেক লোকসান হবে। একই কথা বললেন রায়পুর এলাকার খামারি মহব্বত হোসেন, কড়াইতলার নাজিম উদ্দীন ও দেয়াড়ার খামারি রাজু আহম্মেদ।

এদিকে, যশোরের মণিরামপুরের হুরগাতি গ্রামের খামারি আসমত আলী গাইনের ‘বাংলার বস’ ও ‘বাংলার সম্রাট’ সাড়া ফেলে দিয়েছে। তিনি গরু দুটোর দাম চাইছেন ৮০ লাখ টাকা। বিশালাকার গরু দুটি দেখতে তার বাড়িতে লোকজন ভিড় করছেন।

আসমত বলেন, বাংলার বসের দাম চেয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। ব্যাপারীরা ৩০ লাখ পর্যন্ত দাম উঠিয়েছেন। আর বাংলার সম্রাটের দাম ৩০ লাখ টাকা চাইলেও ব্যাপারীরা দাম বলেছেন ১৫ লাখ টাকা। তার দাবি, এ বছর কোরবানিতে এর চেয়ে বড় গরু আর পাওয়া যাবে না। কোরবানির আগে গরু দুটি ঢাকায় নিতে পারলে আশানুরূপ দামেই বিক্রি করতে পারবেন। আশানুরূপ দাম না পেলে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিক্রি করবেন।