কৃষিঋণ বিতরণে অনীহা পেলেই ব্যবস্থা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ২১:৪৮

৪৩ ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কৃষিঋণ বিতরণে অনীহা বা সহযোগিতা না করার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে দায়ী ব্যাংক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে সতর্ক করে সম্প্রতি ৪৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কৃষিতে উত্পাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। কৃষি খাতে স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির জন্য আগামী ১ বছর সুদ ভর্তুকি দেবে সরকার। কৃষকরা ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। আর ৫ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করবে সরকার। এছাড়া কৃষি খাতের ঋণের অন্তত ৬০ শতাংশ শস্য খাতে দিতে হবে। তবে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী কৃষকদের সেবা দিতে এগিয়ে আসে না ব্যাংকগুলো।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসে কৃষি খাতের ক্ষতি মোকাবিলার পাশাপাশি আগামীতে খাদ্যের উত্পাদন ও খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নানা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। কৃষকদের অনুকূলে ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ খাতে ঋণ বিতরণে সুদ ভর্তুকি ছাড়াও নানা সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। তারপরও ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষিঋণ বিতরণে অনীহা দেখা যাচ্ছে।

এ জন্য প্যাকেজের আওতায় কৃষিঋণ বিতরণ বাড়াতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঐ চিঠিতে আরো বলা হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলায় প্রণোদনা সুবিধার আওতায় কৃষকের অনুকূলে ঋণ বিতরণে কোনো ধরনের অনীহা ও অসহযোগিতা করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। এ ধরনের জাতীয় সংকটকালে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংকই সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া কৃষি খাতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বরাদ্দসহ সুদ ভর্তুকি প্রদানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপরন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নীতি-সহায়তা প্রদানের পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে।

এমতাবস্থায়, স্বচ্ছতা ও হয়রানিমুক্তভাবে প্রণোদনা সুবিধার আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে চলতি মূলধন এবং শস্য ও ফসল খাতে কত কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য চিঠি পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগে প্রদান করার পরামর্শ দেওয়া হলো।