আসিফ আহমেদ
কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস বর্তমানে একটি আতঙ্কের নাম। বিশ্বের প্রায় ১৮৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বিশ্বে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে এবং করোনায় মৃত্যু মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে লাশের সংখ্যা। বিদেশের গণ্ডি পেড়িয়ে দেশেও মহামারি রূপ ধারণ করেছে ভাইরাসটি। ক্রমাগত বেড়েই চলছে করোনা রোগী ও মৃতের সংখ্যা। বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৪১৭ জন এবং করোনায় মৃতের সংখ্যা ২ হাজার জন ছাড়িয়েছে।
যেহেতু এখনো করোনার কোনো কার্যকরী প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি, তাই জনসচেতনতাই এখন করোনা প্রতিরোধের প্রধান উপায় হিসেবে ধরা হচ্ছে। কিন্তু দেশে দিন দিন করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়লেও মানুষের মধ্যে সচেতনতার মনোভাব কমে যাচ্ছে। সরকার দেশে লকডাউন ও বিভিন্ন অঞ্চলকে রেড জোন ঘোষণা করেও লোকজনের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। ঢাকাসহ অন্য বড় শহরগুলোতে কিছুটা নিয়মকানুন, সচেতনতা লক্ষ করা গেলেও গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার বালাই নেই।
গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষই নানা রকম কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসে নিমজ্জিত। এত মানুষের মৃত্যুর পরও গ্রামের সিংহভাগ মানুষ এখনো বিশ্বাস করে ভাইরাস বলতে কিছু নেই। মাস্ক ব্যবহার করা তাদের কাছে অনেক বড় লজ্জার বিষয়! সবাইকে মৃত্যুবরণ করতে হবে এবং যার মৃত্যু যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই হবে—এই দোহাই দিয়ে মানছে না কোনোরকম স্বাস্থ্যবিধি।
প্রতিনিয়তই শহরে যাওয়া-আসা, রাস্তাঘাটে চলাফেরা এবং হাটবাজারে গেলেও মানছে না সামাজিক দূরত্ব। মাস্ক ব্যবহার না করেই দল বেঁধে ক্যারাম, ফুটবল, ক্রিকেট খেলা আর টং দোকানের চা-সিগারেটের আড্ডায় তাদের অবাধ বিচরণ। ফলে খুব দ্রুতই মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসটি। অনেকের করোনার লক্ষণ জ্বর, ঠান্ডা, গলাব্যথা থাকলেও হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছে। সাধারণ নাপা-এক্সটা আর প্যারাসিটামলকেই চিকিত্সা হিসেবে গ্রহণ করছে।
গ্রামের শিক্ষিত ও সচেতন মহল করোনা প্রতিরোধে সচেতন করতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হয়ে নিরুত্সাহিত হয়ে পড়ছে। ফলে করোনা আতঙ্কে দিন কাটছে গ্রামের সচেতন মানুষের।
যেহেতু গ্রামাঞ্চলে এখনো করোনার প্রভাব তেমন পড়েনি,তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে একটি বৃহত্ জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ রাখার এটাই উপযুক্ত সময়। গ্রামের মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করে সচেতন ও নিরাপদ রাখতে গ্রামের শিক্ষিত, সচেতন মহল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রসাশনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে এবং গ্রামে করোনা পরীক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পরিশেষে, করোনা ভাইরাসের কার্যকরী কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কারের পূর্বপর্যন্ত সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি বৃহত্ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী তথা দেশের সব মানুষকে কোভিড-১৯-এর ভয়াল ছোবল থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
