কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবদমান দু’গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত ও পুলিশসহ অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। গতকাল সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম বিল্লাল হোসেন (৫০)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের সান্দিয়ারা বাজার এলাকার বিবদমান দু-গ্রুপের সংঘর্ষ শুরু হয়। দুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৯০/৯৫ রাউন্ড শটগানের রাবার বুলেট ছোড়ে। এসময় প্রতিপক্ষের আক্রমণ ও হামলার শিকার বিল্লাল পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটেও গুরুতর আহত হন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় বিল্লালকে কুমারখালি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বিল্লাল সান্দিয়ারা গ্রামের মৃত মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় ছয় জন পুলিশসহ দুপক্ষের অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতাল ও কুমারখালি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় সান্দিয়ারা গ্রামবাসীর মধ্যে চরম আতংক ছড়িয়ে পড়ে। লাঠি-সোটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষ চলাকালে এলাকাবাসী প্রান ভয়ে এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে।
খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেগতিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাবার বুলেট ছুড়ে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত হয়। স্থানীয়রা জানান, পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন ও ডাঁসা গ্রামের দুলাল শেখের ছেলে মামুনের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই জের ধরে ওই দু’গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে হতাহতের এ ঘটনাটি ঘটে।পুনরায় সংঘর্ষের আশংকায় এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল। তবে হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কুমারখালি থানার ওসি মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটাটি ঘটেছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসআই
