স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ০০:৪৬

ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ রেবেকা বেগম (২৮) হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলামকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাব। গত রবিবার জামালপুর জেলার ইসলামপুর পৌরসভার মোশারফগঞ্জ এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয় ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

র্যাব-১ জানায়, গত ২৮ জুন আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া হাবুডাঙ্গা ফুজি গার্মেন্টসের পেছনের পুকুর থেকে পুলিশ রেবেকা বেগমের লাশ উদ্ধার করে। থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম তাকে হত্যা করে পালিয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত রবিবার রাতে জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার মোশারফগঞ্জ টঙ্গের আগলা গ্রামের মেয়রের বাজারে অভিযান চালিয়ে মফিজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। 

আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি পেশায় একজন হকার। তার স্ত্রী রেবেকা গার্মেন্টস কর্মী। করোনা পরিস্থিতির কারণে রেবেকা চাকরি হারান। ২০০৬ সালে গার্মেন্টসে চাকরি করার সময় রেবেকার সঙ্গে পরিচয় এবং বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের ৫ বছর পরে পারিবারিক কলহের কারণে তাদের ডির্ভোস হয়। পরবর্তীতে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ছয় মাস আগে রেবেকার সঙ্গে তার আবার যোগাযোগ হয়। ৬ জুন তিনি পুনরায় রেবেকাকে বিয়ে করেন।

র্যাব জানায়, মফিজুল মিরপুর এলাকায় এবং রেবেকা আশুলিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত। বিয়ের পর মফিজুল মাঝে মাঝে আশুলিয়ায় রেবেকার বাসায় থাকত। রেবেকা তার স্বামীর সঙ্গে একত্রে বসবাস করার জন্য বলত। গত ২৭ জুন রাত ৯টার দিকে রেবেকা স্বামী মফিজুলকে মোবাইলে ফোন করে মিরপুরে তার ভাড়া বাসায় চলে যায় এবং একত্রে বসবাসের জন্য চাপ দেয়। এই নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতণ্ডার পর মধ্যরাতে স্ত্রী রেবেকাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা রাত ৩টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া হাবুডাঙ্গা ফুজি গার্মেন্টসের পিছনে কাছাকাছি পুকুর পাড়ে পৌঁছালে ব্যাপক বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রেবেকাকে মাটিতে ফেলে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশ পুকুরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান।