মানবহীন বিমানের নকশা করার প্রতিযোগিতায় ছয়টির মধ্যে তিন ক্যাটাগরিতেই সাফল্য অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইইউটি) শিক্ষার্থীদের দল ‘অ্যান্টস’। যুক্তরাজ্যের ইন্সটিটিউশন অব মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারস ‘আনম্যান্ড এয়ারক্রাফট সিস্টেম’ বা ইউএএস চ্যালেঞ্জ নামের এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে। বাংলাদেশ থেকে অ্যান্টসই এবার প্রথমবারের মতো এতে অংশগ্রহণ করেছে। কানাডা, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তানসহ ১০টি দেশের ৩৬টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আনম্যান্ড এয়ারক্রাফ্ট সিস্টেমের অর্থ হলো পাইলটবিহীন স্বয়ংক্রিয় উড়োযান, যেটি অপারেটরের তৈরি প্রোগ্রামের মাধ্যমে গন্তব্যে যেতে পারে। জরুরি অনুসন্ান, চলমান অবস্থায় প্যাকেজ ড্রপ করা, ম্যাপিং, থার্মাল এক্সামিনেশন, ভূমি পরিমাপ ও নানা কাজ করতে সক্ষম হয় এধরনের উড়োযান। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজন করে এই ধারণাটিকে আরও আধুনিকায়ন করতেই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। বিশ্বখ্যাত বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা বোমবার্ডিয়ার, এরোস্পেস, কিউবেকসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এতে সহযোগিতা করে।
আইইউটির শিক্ষার্থীদের দলটি তাদের তৈরি উড়োযানের নাম দেন ফ্রিডম-৭১ বা এফ-৭১। এটি অনেকটা গতানুগতিক উড়োজাহাজের আদলে তৈরি, যার দুটি প্রপেলার সম্বলিত ডানা এবং লেজটি মূল কাঠামো থেকে কার্বন রড দিয়ে পৃথককৃত হলেও এটি সাধারণ ড্রোন থেকে শক্তিশালী, জ্বালানী সাশ্রয়ী ও অধিক গতিসম্পন্ন। অ্যান্টস দলের সদস্য সুমাইয়া আফসানা জানান, ছোট এই উড়োযানের কাঠামোটিকে কয়েক ভাগে ভাগ করে নকশা করা হয়েছে, যাতে এটিকে সহজেই খুলে বহন করা যায় এবং দ্রুততম সময়ে জোড়া লাগানো যায়।
মূলত নকশা করার ক্ষেত্রে অন্যতম ভাবনা হিসেবে কাজ করেছে করোনা ভাইরাস শনাক্তের সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা পরীক্ষার বিষয়টি। দেশে নানা সীমাবদ্ধতায় ব্যাপকসংখ্যক জনসংখ্যার অনুপাতে টেস্টের পরিমাণ খুব কম, তাছাড়া পরীক্ষাগারগুলোও বড় শহরে; যে কারণে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহের পর তা পরীক্ষাগারে নিয়ে আসতে অনেকটা সময় ব্যয় হয়। ধারণা অননুযায়ী, এফ-৭১ খুব অল্পসময়েই নমুনা সংগ্রহ করে সেটিকে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে প্যাকেজ ড্রপ করে নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে পৌঁছে দিতে পারবে। উড়োযানের নকশায় জাতীয় আঁশ পাটের তৈরি বাক্স রাখা হয়েছে, যেটিতে করে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার নমুনা বহন করা হবে। প্রয়োজনে ওষুধ বা ত্রাণসামগ্রীও বহন করতে পারবে এটি।
দলটিতে আরও ছিলেন আসীর নিহালুল, জাহিদুজ্জামান, সামিন হাসান, তাওসীফুল, সালিম সাদমান, তাহমিদ, রেদোয়ান, ফাহিম ফয়সাল, ফাহিম আহম্মেদ, খালেদুন নেওয়াজ, আজমাঈন ফারহিনম মিনহাজুল আলম ও আবিদ হাছান।
