রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলশ্রমিকদের পাওনা হিসাব করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধানের আলোকে অবসরপ্রাপ্ত এবং বর্তমান স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা নির্ধারণ করবে। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫ জুলাই গঠিত এই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনার হিসাব যাচাই-বাছাইকরণের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হলো। এ কমিটিতে সভাপতি ছাড়া আরো চার সদস্য থাকবেন। কমিটি ইচ্ছা করলে বা প্রয়োজন বোধ করলে নতুন কোনো সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থ বিভাগের বাজেট-৪-এর যুগ্মসচিব মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন, অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মমিনুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক (রিজার্ভ) মো. সাইদুর রহমান সরকার, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নূরউদ্দীন আল ফারুক। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) প্রতিষ্ঠার সময় এর আওতায় ৭০টিরও বেশি পাটকল ছিল; কিন্তু ধারাবাহিক লোকসানের কারণে মিলসংখ্যা কমতে কমতে ২৫-এ গিয়ে ঠেকে। প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরের মধ্যে ৪৪ বছরই লোকসানে ছিল বিজেএমসি। বর্তমানে সংস্থাটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর কারণ হিসেবে সরকারের পক্ষে আরো বলা হয়েছে, সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৫ হাজার পাটকলশ্রমিকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের পাওনা অর্ধেক নগদ এবং বাকি অর্ধেক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে প্রকৃত পাওনা ঠিক করতে অর্থমন্ত্রণালয় এই কমিটি গঠন করেছে। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে তাদের পাওয়া পরিশোধ করা হবে। শ্রমিকদের পাওনা সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে।
