লালন শাহের মাজারসংলগ্ন লেক

ঢেকে যাচ্ছে কচুরিপানায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না ঘাট

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ২১:৫৩

কুষ্টিয়ায় ফকির লালন শাহের মাজারসংলগ্ন লেকটি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। কচুরিপানা ও আবর্জনায় ক্রমেই ভরাট হচ্ছে লেকটি। মাছ চাষ প্রকল্প বন্ধসহ দুটি ঘাট ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিপাকে লালন আখড়াবাড়িতে আগত বাউলসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালনের মৃত্যুবার্ষিকী ও স্মরণোত্সবে লাখো মানুষের ভিড় মাজার প্রাঙ্গণে সংকুলান না হওয়ায় মাজার চত্বরের বাইরে প্রায় দুই দশক আগে মরা কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে প্রায় ১২ একর জায়গায় মাঠ নির্মাণ ও তৈরি করা হয় উন্মুক্ত মঞ্চ। পাশাপাশি এ মাঠ ও উন্মুক্ত মঞ্চের চারদিকে বিশালকার লেক সংস্কার করে চালু হয় মাছ চাষ প্রকল্প। প্রতি বছর টিকিট বিক্রির মাধ্যমে মাছ শিকারিদের কাছ থেকে আয় হতো কয়েক লাখ টাকা। কিন্তু এখন সে দৃশ্যপট আর নেই। টানা দুই বছর বন্ধ মাছ চাষ প্রকল্প। লেকে এখন মাছ নেই, চলে না নৌকাও। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে লেকটি। ফলে দুটি অনুষ্ঠানে লালন আখড়ায় আগত অগণিত বাউল-বাউলানিরা বাঁধানো দুটি ঘাট ব্যবহার করতে না পেরে পড়েন বিপাকে। নির্বাচিত কমিটি না থাকায় লেকের পরিচর্যা-রক্ষণাবেক্ষণ ও মাছ চাষ প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে লালনভক্ত-অনুরাগীসহ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

একাডেমি পরিচালনা কমিটির প্রাক্তন সহসাধারণ সম্পাদক ও চাঁপড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক মঞ্জু জানান, মত্স্য চাষ প্রকল্প বন্ধ থাকায় প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা ক্ষতিসহ বিশালকায় লেকটির আসল রূপ-সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। এছাড়া কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণের চার বছর পরও লালন একাডেমির নির্বাচন ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের শামিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও পদাধিকার বলে লালন একাডেমির এডহক কমিটির সভাপতি মো. আসলাম হোসেন জানান, এডহক কমিটির সদস্যবৃন্দের সঙ্গে আলোচনাক্রমে লেক সংস্কারসহ মাছ চাষ প্রকল্প সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।