এক বছরের মেয়েকে পুকুরে ছুড়ে ফেলে মারলেন পাষণ্ড মা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ২২:৫৯

রাজবাড়ীতে এক বছরের শিশু সুরাইয়া আক্তারকে পুকুরে ফেলে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মা হনুফা বেগম ওরুফে সুমির (৩০) বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের বার্থা বিলপাড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। ঐ শিশুর মা সুমি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

দুপুরে স্থানীয় মজিদের পুকুর থেকে মৃত অবস্থায় শিশু সুরাইয়াকে উদ্ধার করেছে শিশুটির নানি রওশন আরা বেগম। নিহত সুরাইয়া বার্থা এলাকার আলমগীর হোসেনের মেয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী নমিতা হালদার বলেন, গরুর খাবারের জন্য স্থানীয় মজিদের পুকুর পাড়ে খড় আনতে গিয়ে দেখি শিশু সুরাইয়াকে কোলে করে তার মা সুমি বেগম চুমু খাচ্ছে আর আদর করছে। ভেবেছিলাম এমনি হয়তো বসে আছে। পরে আমি চলে আসি। এর কিছুক্ষণ পর দেখি সে একা দৌড়ে চলে যাচ্ছে। তাকে ডেকেছি কিন্তু সে আমাদের দিকে ফিরেও তাকায়নি। এর কিছুক্ষণ পরে শিশুটির নানি শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।  সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

শিশুটির নানি রওশন আরা জানান, আমার মেয়ে সুমিকে দেখলাম আমার নাতনিকে নিয়ে শুয়ে আছে। আমরা বাইরেই কাজ করছিলাম। হঠাত্ কেন এমন হলো বুঝে উঠতে পারছি না।

জানা গেছে, দুই বছর আগে বানিবহ ইউনিয়নের বার্থা গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের মেয়ের সঙ্গে বিবাহ হয় রাজবাড়ী থানার কম্পিউটার টাইপার বা মামলা লেখক আলমগীর হোসেনের। তাদের একটিই মেয়ে সুরাইয়া। ছয় মাস আগে হনুফা ওরফে সুমি তার বাবার বাড়ি চলে আসে। 

রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।