আয়েশি ট্রেন!

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৬

 

রেলগাড়িতে ভ্রমণ করাটা সবার কাছে এক আনন্দের বিষয়। কিন্তু যাত্রাপথ যদি অতি দীর্ঘ হয় তাহলে নিম্নমানের ট্রেন কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়! শুধুমাত্র বিলাসবহুল ট্রেনই তখন আপনাকে দিতে পারে পাঁচতারা হোটেলের সেবা। ট্রেনগুলোতে ভ্রমণের সময় দেশের অনন্য কলা-সংস্কৃতি পর্যবেক্ষণের সাথে সাথে মনোরম প্রকৃতির পরশও পাবেন। আজ আমরা তেমন কিছু বিশ্বসেরা কু-ঝিকঝিক রেলগাড়ির গল্প করবো। জানবো তেমনই বেশকিছু রেলগাড়ি সম্পর্কে—

 

পাঁচতারা ট্রেন ‘শিকি-শিমা’

কী নেই এতে! নামি বাবুর্চি, দামী কাঠের বাথটাব আর ফায়ারপ্লেসের আরামদায়ক উষ্ণতা। যেন চলমান পাঁচতারা হোটেল! নাম ‘শিকি-শিমা’। এই ট্রেনকেই পৃথিবীর সবচেয়ে বিলাসবহুল ট্রেন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ট্রেনটিতে সব মিলিয়ে ১০টি বগি আছে। বাইরের দৃশ্য দেখার সুবিধার্থে জানালার কাঁচগুলো বিশাল। নৈশভোজের পর সবাই মিলে পানীয়সহযোগে পিয়ানোর সুর শুনতে পাবেন। এই ট্রেনযাত্রা টোকিও থেকে শুরু হয়ে জাপানের সবচেয়ে উত্তরের দ্বীপ হোক্কাইডোতে গিয়ে শেষ হয়। ফিরতি ট্রেনও আছে। শিকি-শিমায় চারদিন তিন রাতের অতুলনীয় অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে যাত্রীদের জনপ্রতি সাড়ে ৮ হাজার মার্কিন ডলার গুনতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানায়, টিকেটের দাম অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও যাত্রীর কমতি নেই। আগামী মার্চ পর্যন্ত সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে।

 

উপমহাদেশের সেরা ট্রেন ‘মহারাজা’

উপমহাদেশের সবচেয়ে বিলাসবহুল ট্রেন হচ্ছে, মহারাজা এক্সপ্রেস। যার অন্দরসজ্জা ও ডেকোরেশন পাঁচতারা হোটেলকেও হার মানায়। ট্রেনটি দিল্লি, মুম্বাই, আগ্রা, ফতেহপুর, বিকানের ও বারানসিতে যাতায়াত করে। এই ট্রেনে ভ্রমণ মধ্যবিত্ত তো দূরের কথা, উচ্চবিত্তের কাছেও স্বপ্ন থেকে যায়!

২৪ কক্ষের এই ট্রেনে থাকার ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে ডাইনিং, বার, লাউঞ্জ, জেনারেটর ও স্টোর কার। প্রতিটি স্যুটে রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা, এলসিডি টিভি, ডিভিডি প্লেয়ার, টেলিফোন, লাইভ টিভি, ইন্টারনেট কানেকশন ও সেফ-ডিপোজিট বক্স। মোট ৮৮ যাত্রী সফর করতে পারবেন এই ট্রেনে।

২০১০ সালে পৃথিবীর চতুর্থ বিলাসবহুল ট্রেন হিসেবে নির্বাচিত হয় এই ট্রেনটি। তবে বর্তমানে এই তালিকার খানিকটা পেছনে নেমেছে এই মহারাজা। বর্তমানে শুধু ভারতেই নয়, এশিয়ার অন্যতম ব্যয়বহুল ট্রেন মহারাজা এক্সপ্রেস। ৮ দিনের প্যাকেজ ট্যুরে এই ট্রেনে ঘুরে দেখা যাবে তাজমহল, খাজুরাহো মন্দির, রনথম্বোর, ফতেপুর সিকরি ও বেনারস। প্রাথমিক ভাড়া দিনে জন প্রতি ৮০০ মার্কিন ডলার। রয়েছে ৯০০, ১৪০০ ও ২৫০০ মার্কিন ডলারের টিকেটও।

 

ঐতিহ্যবাহী ভেনিস সিম্পলন

ঐতিহ্য ও বিলাসীতার ছোঁয়া পেয়ে উঠতে পারেন এই ট্রেনে। কারণ এটি শুধু বিলাসবহুলই নয়, পৃথিবীর ঐতিহ্যবাহী ট্রেনেগুলোর মাঝে অন্যতম। ট্রেনটি ভেনিস সিম্পলন ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস নামে পরিচিত।

এই প্রেনের যাত্রা শুরু হয় ১৮৮৩ সালে। সমস্ত ইউরোপ থেকে প্যাসেঞ্জার তুলে রোমানিয়াতে গিয়ে পৌঁছায় ট্রেনটি। যাত্রাপথের মাঝে পড়ে স্ট্রাসবুর্গ, ভিয়েনা, বুদাপেস্ট ও বুখারেস্টসহ আরো কিছু স্থান। মূলত এই ট্রেনটি ৬টি ভিন্নভিন্ন দেশ এবং ১০টি পৃথক পৃথক রেললাইনের চলার পথ অতিক্রম করে।

এই ট্রেনের রেস্তোরাঁয় ব্যবহার করা হয় চিনামাটি ও রূপার বাসন। ডাইনিং কার সাজানো হয় দুধ সাদা লিনেনের কাপড় দিয়ে। সান্ধ্যভোজের সময় আবার ড্রেস কোড আছে। ছেলেরা কালো স্যুট আর মেয়েরা ফরমাল গাউন পরেই কেবল সেই ভোজনে অংশ নিতে পারেন। ট্রেনটিতে আছে রয়্যাল ট্রাভেলার্স সুবিধা, যার মাঝে অন্তর্ভুক্ত আছে অভিজাত শ্রেণি, আমলা ও কূটনীতিকদের জন্য অসাধারণ শৈলীতে বিশেষ আপ্যায়ন ব্যবস্থা।