চীনের উত্তরাঞ্চলীয় ইনার মঙ্গোলিয়ায় বিউবোনিক প্লেগ ধরা পড়ার ঘটনাটি সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি বলেছে, এই মুহূর্তে প্লেগটি মহামারি ঘটানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
গত শনিবার ইনার মঙ্গোলিয়ার বায়ান্নুর শহরে প্রথম এক পশুপালকের বিউবোনিক প্লেগ ধরা পড়ার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। রোগ শনাক্ত হওয়া ঐ ব্যক্তি হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। রোগটিকে ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেছেন, ‘বিউবোনিক প্লেগ আমাদের সঙ্গে ছিল, শত শত বছর ধরে সব সময় আমাদের সঙ্গেই আছে। আমরা চীনে এই রোগ শনাক্তের সংখ্যার দিকে নজর রাখছি। রোগটি ভালোভাবেই সামাল দিয়ে রাখা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা এই প্লেগের উচ্চমাত্রার ঝুঁকি আছে বলে মনে করছি না। তবে আমরা এর ওপর নজর রাখছি, পর্যবেক্ষণ করছি।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিউবোনিক প্লেগ ব্যাক্টেরিয়াঘটিত সংক্রমণ। ইঁদুর বা এজাতীয় প্রাণীর মৃতদেহ ও মলমূত্র থেকে মাছিবাহিত হয়ে মানুষের দেহে এই ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে। এই রোগের লক্ষণ প্রবল জ্বর, শীতের অনুভূতি, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা এবং ঘাড়, বগল ও কুঁচকির লাসিকাগ্রন্থি ফুলে ব্যথা হওয়া। ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত মানব জাতির ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী মহামারির জন্য দায়ী এই বিউবোনিক প্লেগ। ১৪ শতকে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই মহামারি প্রায় ৫ কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তারপর থেকে বেশ কয়েক বার এই রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল। ১৬৬৫ সালের ‘গ্রেট প্লেগে’ লন্ডনের এক-পঞ্চমাংশ মানুষ মারা যায়। আর ঊনবিংশ শতকে চীন ও ভারত জুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাবে ১ কোটি ২০ লাখ লোক প্রাণ হারিয়েছিল। বিবিসি জানায়, বিউবোনিক প্লেগ একসময় বিশ্বের সবচেয়ে আতঙ্কজনক রোগ ছিল, কিন্তু এখন এই রোগের চিকিত্সা সহজলভ্য। আজকাল এন্টিবায়োটিক দিয়ে এই রোগের চিকিত্সা করা যায়।
২০১৭ সালে মাদাগাস্কারে তিন শতাধিক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তবে মেডিক্যাল জার্নাল দ্য ল্যানসেটের গবেষণায় দেখা গেছে, এতে ৩০ জনেরও কম মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের মে মাসে মঙ্গোলিয়ায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে মারমেটের মাংস খেয়ে। তবে প্লেগ সংক্রমণের কোনো ঘটনা থেকে মহামারি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘স্ট্যানফোর্ড হেলথ কেয়ার’-এর সংক্রামক রোগের এক চিকিত্সক বলেন, ‘১৪ শতকের পরিস্থিতি এখন নেই। রোগটি কীভাবে সংক্রমিত হয়, তা এখন আমরা জানি। কীভাবে তা প্রতিরোধ করতে হয় তা-ও জানি।’
