পদ্মার ভাঙনের কবলে তারাবুনিয়া স্টেশন বাজার

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ২১:৩৯

ভেদরগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্টেশন বাজারটি পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়েছে। মঙ্গলবার বাজারের ২৫টি দোকান পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে এক সপ্তাহে ঐ বাজারের ৪০টি দোকান পদ্মায় বিলীন হয়েছে। মুদি দোকানি দিদার সরকার (৪৫) মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, করোনার মধ্যে একমাত্র আয়ের উত্স দোকানটি পদ্মায় গ্রাস করল। শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ভেদরগঞ্জের তারাবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্টেশন বাজারটি পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। বাজারে ১২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কয়েক বছর যাবত্ ঐ এলাকায় পদ্মার ভাঙন রয়েছে। মঙ্গলবার বাজারের ২০০ মিটার জায়গা নদীতে ধসে যায়। তলিয়ে যায় ২৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। গত ৩০ জুন এ বাজারে আরো ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। তখন বাজারে ৩০০ মিটার অংশে ভাঙন রোধের জন্য পাউবো উদ্যোগ নেয়। ঐ স্থানে ১৬ হাজার ২০০ বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত করে। ৪ জুলাই থেকে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতেই আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। তারাবুনিয়া ইউপির মালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান (৪০) বলেন, হোটেলে খাবার বিক্রি করতে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাত্ দেখি পেছনের অংশ দেবে যাচ্ছে। জীবন নিয়ে কোনো রকম দৌড়ে পালাই। বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুছ সরকার বলেন, গত ১০ বছরে বাজারটি কয়েক দফায় ভাঙনের শিকার হয়েছে। তাতে ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকে নিঃস্ব হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। পাউবোর শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। স্টেশন বাজারের ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তারবুনিয়া ইউনিয়নে কয়েকটি স্পটের ভাঙন রয়েছে। সেখানে সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ ভাঙন ঠেকানোর জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ভাঙন রোধে শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করা হচ্ছে।