নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে ধরা হচ্ছে মাছ

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ২১:৫৪

সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে মাছ ধরা হচ্ছে। মাছের প্রজনন মৌসুমে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও একশ্রেণির অসাধু ট্রলার মালিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করছেন না। তারা চিংড়ির পোনা ধরার নাম করে সমুদ্রে গিয়ে সব ধরনের মাছ আহরণে জেলে ও মাঝিদের মদত দিচ্ছেন। কোনো রকম বাছবিচার না করেই চিংড়ির পোনাসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা হচ্ছে। এরপর বাজারে বিক্রি হবে না এমন অপ্রয়োজনীয় মাছ পানিতে ফেলে দিয়ে সমুদ্র দূষণেও তারা ভূমিকা রাখছেন। এতে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, মিঠা পানির মাছ ও ইলিশ রক্ষায় সাফল্য থাকলেও বঙ্গোপসাগরে মাছের পরিমাণ দ্রুত কমছে। কিছু প্রজাতির মাছ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অবৈধ মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বঙ্গোপসাগরে মাছের আকাল সৃষ্টি হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, অবাধে মাছ ধরার ফলে লাক্ষা, সার্ডিন, পোয়া, লটিয়া, ফলি চান্দা, তাইল্লা, হরিণা চিংড়ি ও কাটা প্রজাতির মাছের মজুত এবং পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। এ কারণে লাক্ষা, তাইল্লা, রূপচাঁদা ও পোয়া মাছসহ আরো কয়েক প্রজাতির মাছ এখন খুব কমই পাওয়া যাচ্ছে। এসব মাছ বাণিজ্যিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে সমুদ্রে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধ করতে গতকাল অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে মেরিন একাডেমি এলাকায় পাঁচ জন জেলেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং মাছ ধরার কাজে ব্যবহূত ৬ হাজার মিটার জাল ধ্বংস করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তার ও মোহাম্মদ উমর ফারুক অভিযানে নেতৃত্ব দেন।