বাঁশখালীর নাপোড়ার জেলেরা ফের হামলার আতঙ্কে

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ২২:৪২

বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম নাপোড়া কৈবত্য পাড়ার হিন্দু জেলেরা ফের হামলার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গত ১ জুন ও ১০ জুন ঐ পাড়ায় জমির দখল করতে ৩০/৪০ জনের দুষ্কৃতকারীর দল প্রকাশ্যে হামলা চালায়। তারা অর্ধশতাধিক গাছ কেটে নিয়ে গেছেন এবং দেড় লক্ষাধিক টাকার মাছও লুট করে নিয়ে গেছেন। এতে বাধা দিতে গেলে ছয় নারী ও দুই পুরুষ আহত হন। মামলা করলে জ্বালিয়ে প্রাণে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। গত এক মাস পরও পুরুষরা জেলেপাড়ায় যেতে পারছেন না। গত ৪ জুলাই নাপোড়া জেলেপাড়ার বাসিন্দারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) ও বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনে এসব অভিযোগ করেন।

জেলেপাড়ার অভিযোগকারী তপন দাস, দীপংকর দাস, বাসন্তি দাস, রবি চাঁদ দাস, সাধন দাসসহ অনেকে বলেন, ‘জেলেপাড়াটি ২০০ বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষদের জায়গা। দলিল ছাড়াই জায়গার খতিয়ান করে আমাদের পাড়া থেকে দুই কিলোমিটার দূরের জয়নাল আবেদীন ও মীর মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনসহ ছয় জন ব্যক্তি ১১৮ শতক জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন। ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। বিএস জরিপ ভুল বলে সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু তারপরও আমাদের উচ্ছেদের লক্ষ্যে নারীদের ওপর হামলা চালিয়ে হাত, পা ভেঙে দেয়। পারিবারিক শ্মশানের মন্দিরও ভেঙে দেয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ‘আমার কাছে দেওয়া অভিযোগ আমি থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি।’ সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি বাঁশখালী থানা পুলিশ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলে পরিবারের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ তত্পর আছে। কেউ হুমকি দিয়ে কারো জায়গা-জমি দখল করতে পারবে না।’ তবে অভিযুক্তদের পক্ষে জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘জেলেপাড়ায় আমরা হামলা করিনি। আমাদের জায়গা উদ্ধারে গিয়েছিলাম। ঐসব জায়গা আমাদের। কাউকে হুমকি-ধমকিও দিচ্ছি না।’ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের বাঁশখালী শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাস বলেন, ‘এই বর্বরোচিত হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।’