মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের অ্যাকাডেমি মাঠ।
আকারে ছোট্ট এই মাঠেরই এক প্রান্তে মাশরাফির দল, অন্য প্রান্তে মুশফিকের দল অনুশীলন করল। মাঝে মাঝে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌজন্য বিনিময়, হাসিঠাট্টাও হলো। দুই অধিনায়ক মাশরাফি ও মুশফিক তো দারুণ হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে এক সাথে ছবিও তুললেন। এই সৌজন্যপরায়ণ দল দুটোই আজ বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে।
হ্যাঁ, আজ মাশরাফির রংপুর রাইডার্স ও মুশফিকের চিটাগং ভাইকিংসয়ের খেলা দিয়েই মাঠে গড়াবে এবারের বিপিএল।
দুই দলই মাঠে নামার আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী। যদিও কাগজে কলমে রংপুরই এগিয়ে আছে। তারপরও চিটাগং অধিনায়ক মুশফিক বলছিলেন, ‘এটা যেহেতু প্রথম ম্যাচ, সবাই চাইবে ভালোভাবে স্টার্ট করতে। আমরাও তাই চাই। আমরা যাদের সাথে খেলবো, তারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন—ঠিক আছে। কিন্তু এবার সবাই নতুন করে শুরু করবে। কাগজে-কলমে আমাদের দলটা অতো শক্তিশালী না হলেও আমাদের কিন্তু কয়েকজন কার্যকর টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় আছে। যাদের নিয়ে আমরা খুব ভালো একটা ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করতে পারবো বলে আত্মবিশ্বাসী আছি।’
বিপরীতে মাশরাফিও তার দলটা নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলছিলেন, তার দল আগের বারের চেয়েও ভালো বলে তার মনে হচ্ছে, ‘এবার আমাদের দলটা ভালো, ভারসাম্যপূর্ণ। বোলিং সাইডটা একটু ঠিক রাখতে হবে। এখনও সব প্লেয়ার আসেনি। আগেরবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি এটার একটা এক্সপেক্টেশন তো আছে কিন্তু আগেরবার থেকে দল আরও ভালো আমার কাছে মনে হয়।’
তবে দলের খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়ে মাশরাফি বলছিলেন, সবার জন্য টুর্নামেন্ট ভালো যাবে না। তাই সকলকে চেষ্টাটা করতে হবে, ‘হয়তো সবার জন্যই টুর্নামেন্ট খুব আনন্দের হবে না। ইন অ্যান্ড অফের ভেতর দিয়ে যাবে। কারণ ফরম্যাটটাও টি-টোয়েন্টি। নিজের দিনে যে ভালো করছে তাকেই ভালো করতে হবে। দেখা যাবে ১২-১৩টা ম্যাচের মধ্যে কেউ ৬টা ম্যাচ ভালো করবে, ৬টা ম্যাচ খারাপ করবে। এসব টুর্নামেন্টে এমনই হবে।’
আজকের ম্যাচের কথা বলতে গিয়ে মাশরাফি বললেন, চিটাগং দল যেমনই হোক, একা মুশফিকও ম্যাচ বদলে দিতে পারেন, ‘নিদাহাস ট্রফির কথা চিন্তা করেন, মুশফিক একা একটা ম্যাচ জিতিয়েছেন। আপনি খুব ভালো দল নিয়ে টুর্নামেন্ট, বা পারটিকুলার ম্যাচ জিতবেন, এটা আশা করা ভুল। ওদের টিমও অনেক স্ট্রং। একই সাথে বলবো, যেই সাতটা দল আছে, হয়তোবা ১৯-২০ আরকি।’
রংপুরকে যে বাকি দলগুলোর চেয়ে বাড়তি একটা চাপ নিয়ে খেলতে হবে, সেটা মাশরাফি জানেন। তাই বলছিলেন, ‘আসলে প্রত্যেকবারই তো এই প্রেসার নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করি যে লাস্ট ইয়ার চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের সবসময়ই আলাদা প্রেসার থাকে।’
শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় যাই হোক, মুশফিক বলেছেন, বিপিএল এখন আগের চেয়ে অনেক বড় টুর্নামেন্ট। আর এখানে তরুণদের অনেক কিছু শেখার আছে, ‘বিদেশি ক্রিকেটাররা আসছে মানে বিপিএল বিশ্বের কাছে আরো বেশি মর্যাদাপূর্ণ হচ্ছে। এখানে আমরা অনেক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই। তরুণরা বিদেশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সাথে ড্রেসিং রুম ভাগ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং অনেক কিছু শেখার সুযোগ পায়। এবারের বিপিএল আশা করি খুব ভালো হবে এবং সফল হবে।’
