রাজধানীর আদাবরে চার মাস বয়সি শিশু সাদিয়াকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা ঘটনার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ পারভীন নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে। সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল বুধবার ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ নিজ কার্যালয়ে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানান।
অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেফতার সম্পর্কে ডিসি হারুন বলেন, পুলিশ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ৫ জুলাই ভিকটিমের প্রতিবেশী পারভীনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে। পূর্বশক্রতার জেরে পারভীন ব্লেড দিয়ে শিশু সাদিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে। পারভীনের দেখানো মতে তার ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ব্লেডটি উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত পারভীন একজন গৃহিণী। সে পাঁচ মাস পূর্বে ঢাকায় আসেন। তার স্বামী একজন রিকশাচালক। ভিকটিম সাদিয়ার পিতা একজন দিনমজুর ও দাদা বস্তির ম্যানেজার। লকডাউন চলাকালে পারভীনের স্বামীকে বাসার সামনে ভিকটিমের দাদা কর্তৃক দোকান করতে না দেওয়া, পারভীনের সন্তানদের সঙ্গে সাদিয়ার মায়ের খারাপ ব্যবহার ও গালিগালাজসহ তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাদানুবাদ হতে শত্রুতা তৈরি হয়। আর এই শক্রতার জের ধরে সাদিয়ার মাকে একটি উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে পারভীন। ঘটনার দিন ভিকটিমের মা ভিকটিমকে ঘুম পাড়িয়ে রান্না করতে গেলে পারভীন ঘরে ঢুকে ব্লেড দিয়ে সাদিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে। সে একাই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। গত ৩ জুলাই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
