দুর্নীতিবাজরা পুলিশে থাকতে পারবে না :আইজিপি

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ২২:৪৩

প্রথমবারের মতো দেশের ৬৬০টি থানার ওসির সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্মেলন করলেন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সুন্দরভাবে জীবন চালানো যায়। একজন সরকারি কর্মচারীর ব্যয় হতে হবে তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে বিলাসী জীবন-যাপনের স্থান পুলিশের চাকরি নয়। দুর্নীতিবাজরা পুলিশে থাকতে পারবে না।  গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী থানার অফিসার ইনচার্জদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য প্রদানকালে  তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এক সঙ্গে দেশের সব থানার ওসির সঙ্গে কোনো আইজিপির এ ধরনের মতবিনিময় এই প্রথম।

আইজিপি বলেন, আপনারা নিজে অবৈধ উপায়ে কোনো অর্থ উপার্জন করবেন না, অন্য কাউকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দিবেন না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, কোনো ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাও আপনাদের কাছে ঘুষ বা মাসোহারা চাইলে তা আমাকে নির্ভয়ে জানান। আমি ঐ পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে দেখব।

করোনায় পুলিশের অনন্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, গত তিন মাসে পুলিশ জনগণের কল্যাণ ও সুরক্ষার জন্য যা করেছে তা সত্যিই অভূতপূর্ব। জনগণ পুলিশকে এর প্রতিদানও দিয়েছে। পুলিশ মানুষের অগাধ বিশ্বাস, সম্মান ও আস্থা অর্জন করেছে। জনগণের এই আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে পুলিশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

পুলিশ অফিসার ও ফোর্সের জন্য বর্তমানে প্রচলিত কল্যাণ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে তাদের চিকিত্সা, সন্তানদের লেখাপড়া, আবাসন এবং অবসর-পরবর্তী সময়েও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন আইজিপি। আইজিপি বলেন, সত্ ও স্বচ্ছ উপায়ে যেন পুলিশ সদস্যরা জীবন-যাপন করতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রেখে কল্যাণ পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

আইজিপি বলেন, ৬৬০ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হলো বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিচ্ছবি। আপনাদের ওপরই বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। আপনাদেরকে এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যাতে জনগণ আপনাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে এবং প্রত্যেককে একজন ‘সোশ্যাল লিডার’ হিসেবে সম্মান করে।

আইজিপি তার বক্তব্যের শুরুতে দায়িত্ব পালনকালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জীবন উত্সর্গকারী ৪৭ জন শহিদ পুলিশ সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র সদস্যকে হারিয়ে বিপন্ন এসব পরিবারের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখের সাথি হওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন আইজিপি।