বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে নারীদের সুরক্ষার জন্য সহজ পদ্ধতিতে না গিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংকল্প করতে হবে বলে মনে করেন অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা ‘ইন্টার প্রেস সার্ভিসে’ লেখা এক মন্তব্য কলামে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এই বিশেষজ্ঞ লিখেছেন, কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়, কোনো সমস্যার সমাধান যতটা সহজ বলে ভাবা হয়, আসলে ততটা সহজ নয়। একই সমাধান দিয়ে সারা পৃথিবীর নারীদের বৈষম্য দূর করার আশা না দেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি লিখেছেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে নারীদের সুরক্ষার জন্য এমন সমাধান দরকার, যা তৈরি হবে তারা যে সংস্কৃতিকে ধারণ করে সেটার ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এটা ‘গাছের পাকা ফলটি পেড়ে নেওয়ার’ মতো সহজ বিষয় নয়, বরং ‘বুনো ষাঁড়ের শিঙে লাগাম পরানোর’ মতো। বলেছেন সায়মা।
‘দ্য কোয়াইট সার্ভাইভারস অব এ গ্লোবাল প্যানডেমিক’ শিরোনামের ঐ কলামে নারীদের দুর্দশার নানা চিত্র তুলে ধরেন অটিজমবিষয়ক বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি সায়মা। করোনা ভাইরাসের এই সময়ে নারীদের প্রতি বৈষম্যের চিত্র প্রকটভাবে ধরা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা। করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে বিশ্বব্যাপী নারীদের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি লেখেন, বৈশ্বিক মহামারির এই সময়ে নারী-পুরুষের বৈষম্যের প্রকটতা যখন তীব্রভাবে দৃশ্যমান হয়েছে, তখন এসব বিষয়ের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক মাসে বিশ্বব্যাপী নারী নির্যাতনের পরিমাণ ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে।
সায়মা হোসেন তার লেখায় বাংলাদেশের নারীদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের যে বিধান দিয়েছেন, সেটির ফলাফল তুলে ধরতে ১৫ বছর আগে নিজের মাস্টার্সের থিসিসের প্রসঙ্গ টানেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা হোসেন। তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, উল্লেখযোগ্য ও প্রভাবশালী এই পরিবর্তন দেখলে বোঝা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পেছনের কারিগর নারীরা। বাংলাদেশে সরকারপ্রধান, সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ, বিচার বিভাগসহ অন্যান্য খাতে নারীদের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ রোধসহ বিভিন্ন নারীর সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
