ইব্রাহীম রাসেল
উদ্বিগ্ন আর উত্কণ্ঠার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এখন সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়তই বোদ্ধারা এ বিষয়ে নানা অভিমত দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবাদ-প্রচারণা চলছেই। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। রোজই দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এক আর দুই নয় সারা দেশে হতাহতের সংখ্যাটা এখন সব সময় ডাবল ডিজিটের হয়। ভাবতে বিস্ময় লাগে, এত ছোট্ট একটা দেশের সীমিত সড়কপথের এই সমস্যাটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আবার আমরা এটাও দেখি—সমস্যা সমাধান করা রেখে, সরকার বা সরকারের বাইরের কেউ কেউ পরস্পরকে দোষারোপে মেতে ওঠেন। সড়ক দুর্ঘটনা এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। সেহেতু উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে এই সমস্যার সমাধানে কাজ করা।
প্রতিদিন ঝরে যাচ্ছে কত তাজা প্রাণ। কেউ মা হারাচ্ছেন। কেউ বাবা। কেউ হারাচ্ছেন প্রিয় সন্তান। কেউবা শরীরের কোনো না কোনো অঙ্গ হারিয়ে বরণ করছে আজন্মের পঙ্গুত্ব। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে কিংবা পঙ্গু হয়ে তার গোটা পরিবারের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ছে। কখনো আমরা দেখি মেধাবী শিক্ষার্থী কিংবা দেশের বিশেষ অংশে বিশেষ অবদান রাখা মানুষগুলোও এই নির্মম হত্যার শিকার হচ্ছেন। যে কারণে অকালে দেশ হারাচ্ছে অনেক মেধাবী মানুষকে।
সবচেয়ে দুঃখজনক হলো এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার চেয়ে ‘লোকদেখানো’ বা ‘আইওয়াশ’টাই বেশি দেখি। করণীয় বিষয় সম্পর্কে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। যাঁরা সমাধান করবেন তাঁরাও জানেন তাঁদের করণীয় কী। কিন্তু সমস্যাটির সমাধানে কিছু বিষয়ে আমাদের আন্তরিক হওয়া উচিত। যেমন—রাস্তাঘাটের ত্রুটি সংশোধন করা, জনগণকে সচেতন করা, দক্ষ চালক তৈরি করা, ফিটনেসহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে না দেওয়া, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো ইত্যাদি। নিত্য-নতুন আরো কত মতামত যোগ হচ্ছে। আসল বিষয় হলো এগুলোর কার্যকর পদক্ষেপের দিকে যাওয়া। কোনো অপশক্তির ভ্রুক্ষেপ না করে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ বা সমাধানের লক্ষ্যে আন্তরিক হওয়া। সত্যিকারভাবে কোনো বিষয়ের ভালো চাইলে ভালোটা করা সম্ভব।
আমরা নানা সময় শুনে থাকি জনগণকে সচেতন হতে হবে। কিন্তু জনগণ কখন সচেতন হবে? যারা এই জনগোষ্ঠীর অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে তাদের আগে সচেতন হতে হবে। নিজের ভেতরে যে ভুলগুলো বিদ্যমান সেই ভুলের বিষয়ে অন্যকে শোধরাতে গেলে বিষয়টা যেমন হাস্যকার ঠিক তেমন কথায় কথায় জনগণকে সচেতন হতে হবে—এ কথা বলাও ঠিক নয়। জনগণ যথেষ্ট সচেতন। সচেতন বলেই তারা অতীতে উপনিবেশবাদ মেনে নেয়নি। মেনে নেয়নি স্বৈরতন্ত্র। কবি কুসুমকুমারী দাশের কথা মনে পড়ে। তিনি লিখেছেন—আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
সাধারণ মানুষ আসলে সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপগুলো দেখতে চায়।
ঢাকা
