চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা

ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ২২:৪৫

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে আগামী তিন বছরে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এর বিপরীতে বন্দরের তহবিলে রয়েছে ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী তিন বছরের উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে বার্ষিক মূলধনি ব্যয়। বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্প এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পসমূহের ব্যয়। বন্দরের বার্ষিক মূলধনি ব্যয়ের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ৩০ কোটি টাকার মধ্যে যে সকল খরচ হয়ে থাকে। এই মূলধনি ব্যয়ের মধ্যে চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০২০-২০২২ অর্থবছরে প্রায় ৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। ২০২০-২০২৩ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। তিন বছরে সর্বমোট মূলধনি ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। বন্দরের বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের ব্যয় দেখানো হয়েছে চলতি অর্থবছরে ২০২০-২০২১ প্রায় ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার      ৪১৯ কোটি টাকা। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ২২৮ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ১৮৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্প বাবদ আগামী তিন অর্থবছরে খরচ দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্প বাবদ আগামী তিন বছরের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে সর্বমোট ৭ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বন্দরের বার্ষিক আয় গড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হয়ে থাকে। এর মধ্যে বেতন-ভাতাদি ছাড়াও সরকারি ট্যাক্স-ভ্যাট বাবদ দিতে হয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সরকারি কোষাগারে অনুদান হিসাবে গত বছর দেওয়া হয় ১২০ কোটি টাকা। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে দেওয়া হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে প্রতি বছর ট্যাক্স বাবদ দিতে হয় ৩৯ কোটি টাকা। এবার করোনা উপলক্ষ্যে সরকারি কোষাগারে দেওয়া হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, আগামী তিন বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল খরচ বাদে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ২ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে বন্দরের তহবিলে তিন বছরে ১১/১২ হাজার কোটি টাকা থাকবে। যা বন্দরের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ব্যয় অপেক্ষা অর্ধেকের চেয়ে কম।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। সে হিসেবে দেশের উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দরের দ্রুত উন্নয়ন প্রয়োজন। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, বে-টার্মিনালসহ চট্টগ্রাম বন্দরের গৃহীত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন দরকার।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সার্বিক ব্যয় সম্পর্কিত তথ্য চেয়ে দেওয়া পত্রের প্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার তাদের ব্যয়ের হিসাব প্রদান করেছে।