করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যেও সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে থেমে নেই অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া চক্রের তৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় দিনে ও রাতে পাল্লা দিয়ে এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ অভিযান চালালেও কয়েকদিনের মধ্যেই তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। আর এ অবৈধ গ্যাস সংযোগকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী মহল হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা। অপরদিকে ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের এসব অবৈধ গ্যাস পাইপের সংযোগ থেকে প্রায়ই ঘটছে ছোটবড় বিভিন্ন দুর্ঘটনা। সম্প্রতি গ্যাস বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের গেন্ডা, রাজাশন, সিটিলেন, উলাইল, কর্ণপাড়া, হেমায়েতপুর, আশুলিয়ার কবিরপুর, বারৈপাড়া, জিরানী, শ্রীপুর, বাইপাইল, বুড়িরবাজার, ডেন্ডাবর, পল্লীবিদ্যুৎ, শ্রীখন্ডিয়া, গাজীরচট, জামগড়া, বেরন, নিশ্চিন্তপুর, ঘোষবাগ, নরসিংহপুর, জিরাব, ইয়ারপুর, টঙ্গাবাড়ি, দূর্গাপুর ও কাঠগড়াসহ আশুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়িতে ও সাভার পৌর এলাকাসহ গোটা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধভাবে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগে ঠিকাদার ও স্থানীয় দালালরা প্রতিটি বাড়ির মালিকের নিকট থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
অবৈধ এ সব সংযোগ থেকে বিভিন্ন স্থানে মাঝে মধ্যেই অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পুড়ে গেছে বসতবাড়িসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল। গত ৫ জুলাই রবিবার ভোরে আশুলিয়ার দুর্গাপুরের পূর্বচালা গ্রামের সামছুদ্দিনের বাড়ির একটি কক্ষে রান্না করার সময় গ্যাস সংযোগের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দগ্ধ হয়ে পোশক শ্রমিক আবুল কাশেম, তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার ও তাদের ছেলে আল-আমীনের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য জাকির মন্ডল, যুবলীগ নেতা কুসুম মোল্লা, হুয়ায়ন মোল্লা, বাড়ির মালিক সামসুদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এর আগে বেরন এলাকার মনিকগঞ্জ পাড়ায় আ. হামিদের দোতালা বাড়িতে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে পুরো বাড়িতে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। সকালে রান্না করার জন্য আগুন ধরানোর চেষ্টা করতেই পুরো ঘরে আগুন লেগে যায়। এতেদগ্ধ হয় ৫ জন। আশুলিয়ার নরসিংহপুরে তিতাস গ্যাসের পাইপ লাইনে বিস্ফোরণের হাসিনা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। এতে দগ্ধ হন আরও বেশ কয়েকজন। সাভারে ভাগলপুরে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে স্বামী ও স্ত্রী নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয় ঠিকাদার ও তিতাস কর্তৃপক্ষের পিছনে। বর্তমানে আবাসিক সংযোগ বন্ধ থাকলেও টাকা দিলেই মিলে অবৈধ সংযোগ। তাদের অভিযোগ, তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে এসব অবৈধ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
এব্যাপারে তিতাস গ্যাস এন্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানির সাভার এরিয়ার ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আবু সাদাৎ মো. সায়েম মুঠোফোনে জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে অনেক বিচ্ছিন্ন ও গ্যাস পাইপ জব্দ করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। অভিযান চলমান থাকবে।
ইত্তেফাক/এসি
