উদ্যোক্তাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ২২:০২

আশঙ্কা করা হচ্ছে, যে রেমিট্যান্স আসছে সেটি প্রবাসী

শ্রমিকদের শেষ সঞ্চয় l সানেম নেটিজেন আলোচনা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঠিকমতো লকডাউন বাস্তবায়ন না করায় মহামারি পরিস্থিতির ক্রমবনতি ঘটছে। একই সঙ্গে রোগ পরীক্ষায় দুর্নীতি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। এ ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। গতকাল শনিবার সানেম নেটিজেন ফোরামের আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানের পরিচালনায় আলোচনায় জুম-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৪৫ জন ব্যক্তি এই পর্বে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সানেম টিমে ছিলেন গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশা, সানেমের গবেষক মাহতাব উদ্দিন, ইশরাত শারমীন।

পর্বের শুরুতে ড. সেলিম রায়হান বলেন, আশঙ্কা করা হচ্ছে, বর্তমানে যে রেমিট্যান্স আসছে সেটি প্রবাসী শ্রমিকদের শেষ সঞ্চয়। প্রবাসী শ্রমিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের দেশে ফেরত আসার আশঙ্কা আরো বাড়ছে। বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থারও উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে না। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে, বছর কয়েক আগে সার্বভৌম বন্ডের কথা বলা হয়েছিল, এটি একটি সম্ভাবনা হলেও এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির ফলে প্রকৃত আয় কমে গেছে। আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিতদের পুঁজি শেষ হয়ে যাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের বাজারে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ক্রমাগত সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। উত্পাদনে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের দিকে নির্দেশ করে তিনি বলেন, শহর থেকে গ্রামে এক ধরনের উলটো অভিবাসন বা রিভার্স মাইগ্রেশন হচ্ছে। যে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো গ্রামে ফিরে যাচ্ছে, সেখানে গিয়ে তারা কোনো কাজ নাও পেতে পারে এবং এতে করে নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিলেও সেটি বিতরণের গতি কম। ব্যাংকিং খাতের নানা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন যে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের বিতরণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। প্রণোদনা প্যাকেজ বিতরণ ও বাস্তবায়নে একটি মনিটরিং ব্যবস্থা দাঁড় করানোর ওপরেও জোর দেন তিনি।