করোনা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে ডেলিভারি না নেওয়া পণ্যের নিয়মিত নিলাম কার্যক্রমে যে স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছিল তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের নিলাম শাখা চলতি জুলাই মাসের ২০ তারিখের পর এ বছরের ষষ্ঠ নিলাম ডাকতে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের উপ-কমিশনার (নিলাম) ফরিদ আল মামুন ইত্তেফাককে বলেন, গত ৩০ জুন এ বছরের পঞ্চম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। দুইটি বিলাসবহুল গাড়িসহ বিভিন্ন লটে নানা ধরনের পণ্যের উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে নিলামে অংশ নেওয়া পণ্যের যে ডাক উঠেছে তার আর্থিক মূল্যায়ন চলছে। পাশাপাশি ২০ জুলাইয়ের পরপরই ঈদের আগে এবছরের ষষ্ঠ নিলাম অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ মাসের নিলামটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। ফলে কাস্টমসের নিলাম শাখা একটি নিলামে এবছর পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, আসন্ন নিলামে প্রচলিত-অপ্রচলিত সব ধরনের পণ্যই থাকছে। এযাবত্ নিলাম হওয়া অপ্রচলিত পণ্যের মধ্যে রেফার কন্টেইনারে আসা মহিষের মাংসও নিলাম হতে দেখা গেছে। এগুলো সম্ভবত ভারত থেকে আসছে। এছাড়াও থাকছে আপেল, কমলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল এবং বেশ কিছু পচনশীল রেফার-কন্টেইনারবাহী পণ্য। প্রত্যেক নিলামেই ১০০ থেকে ১৫০ লটের তালিকা আসে। আমরা এসবের মূল্যায়ন করে নিলামের অনুমতি চেয়ে কাস্টম হাউজে চিঠি দিয়ে থাকি। নিলামে কোনো পণ্যের ডাকে কম মূল্য উঠলে সেগুলো বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, আমদানিকারকদের কারসাজির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি না নিয়ে নিলামে এসে কমমূল্যে পণ্যটি নিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ শোনা যায়, তা এখন সম্ভব নয়। এই নিলাম এখন উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে যে কেউ চট্টগ্রামের বাইরে বসেও নিলামে অংশ নিতে পারছেন।
অন্যদিকে কাস্টম হাউজের অপর একটি ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা যায়, পণ্য নিলামের জন্য বন্দর থেকে সব সময়ই এক ধরনের চাপ থাকে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন আমদানিকারক তাদের পণ্য এবং শিল্পের কাঁচামাল ডেলিভারি নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো নীতি’ গ্রহণ করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩০ দিন উত্তীর্ণ পণ্যভর্তি কন্টেইনার নিলামে পাঠানোর জন্য তালিকা প্রস্তুত শুরু করে। এতে বেশ কিছু আমদানিকারক তাদের পণ্য ডেলিভারি নিলে বন্দর ইয়ার্ডের কন্টেইনার জট পরিস্থিতি সহনীয় হয়ে আসে। তবে জুলাই পর্যন্ত নিলাম শাখায় ৮/৯টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে জুন শেষে মাত্র পাঁচটি নিলাম অনুষ্ঠিত হতে পেরেছে। আশা করা হচ্ছে, নিলামের গতি ক্রমশ বাড়বে।
