ইকবাল হাসান
যুগের তালে তালে নারীরাও এখন ঘরের বাইরে গিয়ে পুরুষের পাশাপাশি কাজে অংশগ্রহণ করছে। একটা সময় যেখানে নারীকে ঘরের কাজেই শুধু নিয়োজিত থাকতে হতো, সেই নারীই আজ ঘরের বাইরে বের হয়ে তার ইচ্ছেমতো কাজ করছে। আমাদের আশপাশে খোঁজ নিলে দেখা মিলবে হাজারো নারীর। নারী শুধু ঘরে-বাইরে গিয়েই কাজ করবে কিংবা শুধু চাকরিই করবে, ব্যাপারটা এরকম নয়। অন্য আর দশটা উদ্যোক্তার মতো নারীরাও উদ্যোক্তার খাতায় নাম লিখিয়েছে। আমার আশপাশেও, মানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়েও আছে এরকম নারী।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আসমা আক্তার মুক্তা ও জান্নাতুল কাউসার রুমকি। একজন পড়ছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগে এবং আরেক জন পরিসংখ্যানে। দুজনে তাদের প্রতিষ্ঠান ‘শ্বেতপদ্ম’ ও ‘আয়নাঘর’ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দু’জনের কাজটাও অনেকটা একই। মেয়েদের সাজসজ্জার নানারকম জিনিস হচ্ছে তাদের ব্যবসায়ের পণ্য। যেমন :মালা, কানের দুল, পায়েল, খোঁপার কাঁটা, টিপ, কানের দুল, চুড়ি, মালা, কালার টিপ, পায়েল, ব্রেসলেট ইত্যাদি।
২০১৯ সালের এপ্রিলে পহেলা বৈশাখের আগে ‘শ্বেতপদ্ম’ নামে ফেসবুক পেজে শখের বশে অর্নামেন্টসের কাজ শুরু করেন আসমা আর অন্যদিকে ছোটবেলা থেকে আঁকাআঁকির অভ্যাস ছিল রুমকির। ফলে, সেখান থেকেই তার মনে হয়েছে সে অর্নামেন্টস তৈরি করতে পারবে। তাই, ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় ‘আয়নাঘর’-এর।
একাডেমিক পড়ালেখার চাপ থাকা সত্ত্বেও সঠিক পরিকল্পনা আর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে তারা এগিয়ে চলছেন। দুজনকে তাদের ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জিগ্যেস করা হলে আসমা আক্তার মুক্তা বলেন, বর্তমানে অর্নামেন্টসের পাশাপাশি শাড়ি, টি-শার্ট, ড্রেস ইত্যাদি হ্যান্ডপেইন্ট করি। সামনে আরো বড় করে নিজের ডিজাইনে জামাকাপড় তৈরি করার ইচ্ছা আছে। তাছাড়া, এই কাজে যাতে আগ্রহী নারীরা যুক্ত হতে পারে সে চেষ্টা করছি।
অন্যদিকে জান্নাতুল কাউসার রুমকি বলেন, আয়নাঘর এখন অনলাইননির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হলেও ভবিষ্যতে সেটিকে আউটলেট হিসেবে আনার পরিকল্পনা আছে। সেখানে মূলত কাজ করার সুযোগ পাবেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যিলয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা, অসহায় নারীরা। সময়ের চাহিদায় এখন সবাই চাকরির দিকে ছুটলেও মুক্তা, রুমকির মতো কিছু দলছুট মানুষ উদ্যোক্তা হওয়ার পথে ছুটছে। যারা নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা আছে তাদের প্রতি দুজনের পরামর্শ হলো, আপনি কাজটা যদি শুরু করেন তা ধৈর্য সহকারে শেষ করার চেষ্টা করবেন, মাঝপথে এসে থেমে থাকা যাবে না এবং অবশ্যই নিজ কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে, সুযোগ এলে সেটি কাজে লাগাতে হবে।
দেশে বেকার বাড়ছে ক্রমাগত। শুধু চাকরির চিন্তা করলে সবাইকে চাকরি দেওয়া যাবে না। এগিয়ে আসতে হবে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে। আসমা, রুমকির মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরে আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখতে পাব সেই প্রত্যাশা।
