মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক মির্জা ফখরুলের

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১২

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।

দূতাবাস সূত্র জানায়, প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক হয়। বৈঠকে মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বক্তব্য ও অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপির নেতারা।

ইতোমধ্যে ‘ভোট কারচুপি, অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ করে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সূত্র জানায়, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও এর স্বপক্ষে তথ্য, উপাত্ত, ভিডিও ক্লিপিংস উপস্থাপন করেন বিএনপি নেতারা। এ ছাড়া, নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির দেওয়া স্মারকলিপির তথ্য-উপাত্ত নিয়েও রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন তারা। 

জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরদিন মার্কিন দূতাবাসের  রাজনৈতিক শাখার একজন কর্মকর্তা নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সঙ্গে আলাপ করেন এবং নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানতে চান। সে সময় রুহুল কবীর রিজভী প্রাথমকিভাবে প্রতিক্রিয়া দেন এবং জানান যে, দলের শীর্ষ নেতারা পরবর্তীতে বিস্তারিত বলবেন। এরপর এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিএনপিকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। তার প্রেক্ষিতে গতকালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দিকে, গতকাল  মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির নেতারা সাংবাদিকের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। সাংবাদিকেরা বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর দেননি।

বিএনপির সূত্রগুলো আরও জানিয়েছেন, বিএনপি এবং তাদের জোটের নির্বাচিতরা শপথ নেবেন কিনা, নতুন সংসদে তারা যোগ দেবেন কিনা, বৈঠকে এসব প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বিএনপির অবস্থান বা মনোভাব জানতে চেয়েছেন। এই বিষয়গুলোতে দলটি এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। একইসাথে বিএনপির সূত্রগুলো বলেছেন, নির্বাচনে বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে এ মুহুর্তে দলটিতে আবেগ কাজ করছে। আর সেকারণে দলে তাদের নির্বাচিতদের শপথ না নেওয়ার পক্ষে একটা মত রয়েছে। সে বিষয়টিও রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।