‘মানব ও অর্থ পাচার বন্ধে আন্তঃদেশীয় অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে’

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:৪৪

মানব ও অর্থ পাচারের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার এবং সচেতনতা তৈরিতে নাগরিক সমাজের ভূমিকাও অপরিহার্য। গতকাল রবিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও কুয়েত ট্রান্সপারেন্সি সোসাইটি (কেটিএস) আয়োজিত ‘সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় নাগরিক সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক এক যৌথ ভার্চুয়াল সেমিনারে আলোচকেরা এ মন্তব্য করেন। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) চেয়ারপারসন ডেলিয়া ফ্যারাইরা রোবিও। এছাড়া আলোচনায় যুক্ত হন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি অব কুয়েতের সাবেক সদস্য ড. হাসান জোহার, কেটিএসের চেয়ারপারসন মাজিদ আল মুতাইরি, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং কুয়েত ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের ড. দালাল আল সাইফ। সেমিনার সঞ্চালনা করেন কেটিএসের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আসরার হায়াত। ডেলিয়া ফ্যারাইরা রোবিও বলেন, ‘দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে অর্থ পাচার বন্ধ করতেই হবে। সম্মিলিত ও আন্তঃদেশীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ ধরনের সংঘবদ্ধ আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন করা সম্ভব। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সঠিক নীতিকাঠামো ও আইন এবং সেগুলোর যথাযথ ও কঠোর বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ জরুরি। বিশেষ করে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। এজন্য কর্তৃপক্ষের আইনি ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে হবে। কেটিএসের চেয়ারপারসন মাজিদ আল মুতাইরি অর্থ ও মানব পাচারের মতো অপরাধ প্রতিরোধে কেটিএসের নানা প্রয়াস তুলে ধরেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ‘অর্থ ও মানব পাচারে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ :প্রভাব ও সম্ভাবনা’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, অর্থ ও মানব পাচারের মতো অপরাধে কুয়েতে একজন বাংলাদেশি সংসদ সদস্যের আটক হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। এটি বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বে দুর্বৃত্তায়নের একটি অসম্মানজনক দৃষ্টান্তও বটে। এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব যেন উভয় দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থেকে অপরাধ মোকাবিলায় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি অব কুয়েতের সাবেক সদস্য ড. হাসান জোহার বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্বে নিয়োজিতরা সুস্পষ্টভাবেই ব্যর্থ হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের পুরো ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো জোরদার করতে হবে। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, দুর্নীতিও কোভিডের মতোই একধরনের ভাইরাস। উত্স থেকেই এই ভাইরাস নির্মূল করতে না পারলে সাধারণ জনগণেরও দুর্নীতিতে আক্রান্ত ও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কুয়েত ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের ড. দালাল আল সাইফ ‘আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন চুক্তি’বিষয়ক জাতিসংঘের কনভেনশন বাস্তবায়নে কুয়েতের ফৌজদারি আইনের ঘাটতি সম্পর্কে আলোচনা করেন।