দুই যুগ ধরে নিজ অর্থায়নে বৃক্ষ রোপণ

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ১৬:৪৩

পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক। তবে নেশায় বৃক্ষপ্রেমী। অবসর সময়ের বেশির ভাগ সময়ই তিনি গাছ লাগানো ও তার পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন। বাগেরহাটের চিতলমারী শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক চন্দ্র শেখর মিস্ত্রি এলাকায় একজন বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেই পরিচিত।

১৯৯৫ সালে শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজে সংস্কৃত বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন চন্দ্র শেখর মিস্ত্রী। এ প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই নিজ অর্থায়নে তিনি বৃক্ষ রোপন করে যাচ্ছেন। তিনি শুধুমাত্র বৃক্ষ রোপণই করেন না রোপিত বৃক্ষ বড় না হওয়া পর্যন্ত নিজ হাতে তার পরিচর্যাও করেন। বনজ, ফলদ, ঔষধি, ভেষজ, ফুলের বৃক্ষ রোপণ করে যাচ্ছেন। তার রোপিত গাছ শোভা বর্ধিত করছে বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে। 

এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাস্তার পাশ, ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর, বিভিন্ন ব্যক্তির ফাঁকা জায়গায় প্রায় দুই যুগ ধরে নিজ অর্থায়নে বৃক্ষ রোপণ করে যাচ্ছেন। এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে তার নিজ হাতে রোপণ করা বৃক্ষ। তার রোপণকৃত বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে আম, জাম, নারিকেল, সফেদা, পেঁপে, করমচা, নয়াল, টেফল, বেল, আমলকী, আতা, আনারস, সুপারি, বিভিন্ন প্রজাতির কলা, মেহগনি, শিরিষ, বকুল, রেইন ট্রি, শিউলি, জবা, মাল্টা, বাতাবি লেবুসহ প্রায় শতাধিক প্রজাতির দেশি বৃক্ষ। তার রোপিত  বিদেশি বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে, চন্দন, ফায়ার বল প্রভৃতি। এছাড়াও ফুলের মধ্যে রয়েছে,শিউলি, পারুল, টগর, কাগজী মাধবী, পলাশ, বকুল, জবা, গোলাপ, নাইট কুইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনসাই বৃক্ষ।  

আরো পড়ুন: মঙ্গলবার যশোর-৬ আসনে উপনির্বাচন, ৩ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা 

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি নিরলসভাবে এলাকার বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মন্দির প্রাঙ্গণ, রাস্তা-ব্রিজের পাশে ও বিভিন্ন ব্যক্তির ফাঁকা জায়গায় নিরলসভাবে বৃক্ষ রোপণ ও তার পরিচর্যার কাজ করে যাচ্ছেন। শত কাজের মধ্যেও সপ্তাহে দুই দিন স্থানীয় বাজারের নার্সারিতে যান চন্দ্র শেখর মিস্ত্রি। পছন্দমত গাছের চারা পেলেই তা ক্রয় করে বিভিন্ন স্থানে রোপণ করেন। বৃক্ষ রোপণের সুবিধার্থে নিজ বাড়িতেও গড়ে তুলেছেন ছোট নার্সারি। এ নার্সারিতে রয়েছে বোতল পাম্প, সুপারি পাম্প, খেজুর পাম্প, ক্রিসমাস ট্রি, পান্থপাদপসহ বিভিন্ন ফল গাছের কলম। এলাকায় তিনি বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিচিত।   

চন্দ্র শেখর মিস্ত্রির সাথে কথা হলে তিনি জানান, গাছ মানুষের জীবনে অমূল্য সম্পদ। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গাছের ভূমিকা সর্বাধিক। তাই তিনি বৃক্ষ রোপণ ও তার পরিচর্যা করে আনন্দ পান। 

তিনি আরও জানান, ছোট বেলা থেকেই বৃক্ষের প্রতি তার আলাদা রকমের প্রেম গড়ে ওঠে। তার রোপিত বৃক্ষে যখন ফল, ফুল ধারণ করে তখন আনন্দের সীমা থাকে না। এছাড়াও তিনি তার নিজের হাতে রোপণ করা গাছের বিষমুক্ত ফল ও সবজি সহকর্মী ও প্রতিবেশীদের দিয়ে অধিক আনন্দ পান।   

চিতলমারী উপজেলা বন কর্মকর্তা চিন্ময় মধু জানান, একজন বৃক্ষপ্রেমী মানুষ হিসেবে চন্দ্র শেখর মিস্ত্রি এলাকায় একজন পরিচিত মুখ। তিনি নিজ অর্থায়নে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপণ করে যাচ্ছেন। একই সাথে তিনি রোপিত বৃক্ষের যত্ন করছেন। তার কর্মকাণ্ড সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমরা বিভিন্ন সময় তাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

ইত্তেফাক/এএএম