গাজীপুরে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্পটে পিকনিকের ধুম পড়ে গেছে। ছুটির দিনগুলোতে এসব স্থানে অধিকসংখ্যক পিকনিক পার্টি এলেও সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতেও পিকনিক পার্টির আগমন ঘটছে।
আমাদের দেশে সাধারণত শীত আগমনের সাথে সাথেই পিকনিকের মৌসুম শুরু হয়। তবে এ বছর জাতীয় নির্বাচন থাকার কারণে পিকনিক পার্টি কিছুটা দেরিতে আসতে শুরু করে। নির্বাচনের পর গতকাল প্রথম শুক্রবার পিকনিক পার্টির আগমন ছিল লক্ষ্যণীয়। গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও আশেপাশের পিকনিক স্পটগুলোতে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পিকনিকের হিড়িক পড়ে যায়। স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিমত এবার অন্যান্য বারের চেয়ে পিকনিক পার্টির আগমন ঘটবে বেশি। ইতোমধ্যে জানুয়ারি মাসের ছুটির দিনগুলোতে জাতীয় উদ্যানের সবগুলো পিকনিক স্পট ও রেস্ট হাউজ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।
পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় গাজীপুর মহানগরীর সালনা ও কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, মৌচাক, বাড়ইপাড়া অঞ্চলেও গড়ে উঠেছে অনেকগুলো পিকনিক স্পট ও রেস্ট হাউজ। এসব পিকনিক স্পট ও রেস্ট হাউজ ব্যবহারের জন্য ভাড়া দিতে হয় ছুটির দিন অর্থাত্ শুক্রবার ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য দিনে ৩ হাজার টাকা। পর্যটন কর্পোরেশন ও বনবিভাগের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও বহুসংখ্যক রেস্ট হাউজ, কটেজ, রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট গড়ে উঠেছে এসব এলাকায়। এগুলো ভাড়ার বিনিময়ে ব্যবহার করা যায়। জাতীয় উদ্যানের শ্যামল স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে অবস্থিত স্পটগুলোর রয়েছে আকর্ষণীয় নাম। যেমন চম্পা, অর্কিড, শাপলা, মালঞ্চ, শান্তি, রজনীগন্ধা, বনশ্রী, জেসমিন ও আনন্দ কটেজ। স্পটগুলো ব্যবহার করতে হলে ঢাকার মহাখালিস্থ বন বিভাগের অফিসে যোগাযোগ করে অগ্রিম টাকা দিয়ে বুকিং দিতে হয়।
পিকনিক মৌসুমে আগত লোকজনের নিরাপদ চলাচল ও বিনোদনের জন্য জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বন প্রহরীদের টহল জোরদার করা প্রয়োজন বলে অভিমত ভুক্তভোগীদের। এ ব্যাপারে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও জহির উদ্দিন আকন জানান, এবার অন্য বছরের চেয়ে অধিক সংখ্যক পিকনিক পার্টির আগমন ঘটবে বলে আশা করা যায়। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হবে।
